০৯ মে ’২৬ খ্রি. শনিবার, সকাল ০৯.০০ মিনিট
দেশ ডেস্ক :
নিরাপত্তার অভাবের কথা বলে এ বার পেশোয়ারের দূতাবাস বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করল মার্কিন প্রশাসন। ফলে ফের এক বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন।
নিরাপত্তা দিতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অত্যন্ত স্নেহের’ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ফলে প্রাণের ভয়ে পেশোয়ার থেকে পাততাড়ি গোটানোর সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকার কনস্যুলেট (দূতাবাসের আঞ্চলিক দফতর)। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দুনিয়া জুড়ে পড়ে গিয়েছে শোরগোল। এ বার কি তবে খাইবার পাখতুনখোয়া হাতছাড়া হতে চলেছে পাকিস্তানের? ওয়াশিংটন–ইসলামাবাদ সম্পর্কে ধরবে ফাটল? তুঙ্গে জল্পনা।
পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে অন্যতম হল উত্তর–পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া। এর সঙ্গে আফগানিস্তানের লম্বা সীমান্ত রয়েছে। এই প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে দীর্ঘ দিন ধরেই চলছিল মার্কিন কনস্যুলেট। চলতি বছরের ৬ মে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রক। শুধু তা–ই নয়, সেখানকার যাবতীয় কাজকর্ম এ বার থেকে ইসলামাবাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস পরিচালনা করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিবৃতিও দিয়েছে মার্কিন বিদেশ দফতর। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আর তাই পেশোয়ারের কনস্যুলেট বন্ধ করা হচ্ছে। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের নীতিগত সম্পর্কের কোনও বদল হবে না।’’ তবে ইসলামাবাদ, লাহৌর ও করাচিতে অবস্থিত দূতাবাস ও অন্য দু’টি কনস্যুলেট খোলা থাকছে বলে স্পষ্ট করেছে আমেরিকা।
বিশ্লেষকদের দাবি, পেশোয়ারের দফতর বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, গত কয়েক বছর ধরেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠন তকমা দিয়েও এদের বাগে আনতে পারছে না ইসলামাবাদ। উল্টে তাঁদের চোরাগোপ্তা হামলায় প্রায়ই প্রাণ যাচ্ছে রাওয়ালপিন্ডির অফিসার থেকে শুরু করে সাধারণ সৈনিকদের।
পাকিস্তানের অভিযোগ, পর্দার আড়ালে থেকে টিটিপিকে মদত ও আশ্রয় দিচ্ছেন আফগানিস্তানের তালিবান শাসকেরা। খাইবার পাখতুনখোয়ায় তাদের সৈনিকদের উপর হামলার ‘মূল চক্রী’ নাকি ভারত। নয়াদিল্লির প্রশ্রয়েই নাকি সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ইসলামাবাদের এ–হেন দাবি অবশ্য পত্রপাঠ উড়িয়ে দেয় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু, তাতেও দমে না গিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে কাবুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন রাওয়ালপিন্ডির ফিল্ড মার্শাল মুনির










