প্রকাশ : ২৬ জুন ২৬ খ্রি. শুক্রবার
দেশ প্রতিবেদক, কয়রা ::
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে কোস্টগার্ড ও বনদস্যুদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘দুলাভাই’ বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ওরফে দুলাভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক হয়েছেন। তবে অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে শওকত সরদার (৬৫) নামে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে কয়েক দিন আগে দস্যু বাহিনীটি অপহরণ করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ দস্যুপ্রধান রবিউলকে আটক করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শওকত সরদার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের মৃত এজাহার সরদারের ছেলে। তার মরদেহ কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
মাঝরাতে আতঙ্ক, গ্রাম ছেড়েছেন অনেকে
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরবনের গোলাখালি খাল সংলগ্ন তেতুলতলারচর এলাকায় বিকট শব্দে গোলাগুলি শুরু হয়।
তেতুলতলারচর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন গাজী প্রতিবেদককে বলেন, “রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে শুনি একের পর এক গুলির শব্দ। গ্রামের নারী-পুরুষ সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মাঝরাতে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খোকন বলেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম দুই দস্যু দলের মধ্যে হয়তো যুদ্ধ চলছে। কিন্তু সকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোস্টগার্ডের সঙ্গেই দস্যুদের গোলাগুলি হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, নিহত শওকত সরদার একজন সাধারণ জেলে। কয়েক দিন আগে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনী তাকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছিল।
পুলিশ ও বন বিভাগের বক্তব্য
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সুন্দরবনে গোলাগুলির ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি সাধারণ জেলে নাকি বনদস্যু—তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দস্যু বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ওরফে দুলাভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক হয়েছেন। সুন্দরবনের ভেতরে কোস্টগার্ডের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।”
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শরিফুল ইসলাম জানান, রাতে গোলাগুলির খবর পেয়েই তারা কোস্টগার্ডকে বিষয়টি অবহিত করেন। কোস্টগার্ডের অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
কোস্টগার্ডের অবস্থান:
অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।








