০৫ মে ’২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
দেশ সংযেোগ ডট কম
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে অভিষেকের ক্ষমতা বেড়েছিল তৃণমূলের অন্দরে। শুধু দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নয়, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণও চলে গিয়েছিল তাঁর হাতে।
দল ক্ষমতায় থাকালীন ১২ বছর আগে তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। ১২ বছর পরে তিনি সরাসরি বিরোধী পরিসরে। প্রথম বার। তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে গেল। তিনি কী করবেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে সরতেই জল্পনা শুরু হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি কি বিরোধী পরিসরে রাজনীতি চালিয়ে যাবেন? নাকি ভিন্ন কোনও পথে হাঁটবেন? জল্পনা এই কারণেই যে, অভিষেকের রাজনীতিতে আসা, নেতা হয়ে ওঠা, সবই তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে। ২০১১ সাল পরবর্তী সময়ে।
আপাতত মঙ্গলবার বিকাল ৪টেয় মমতার সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হবেন অভিষেক। সেখানে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে একটা দিশা তাঁরা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেই মনে করছে তৃণমূলের অন্দরমহল। সে দিশা কোন পথে চলবে, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে জল্পনা এবং আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলে অভিষেকের ক্ষমতা যত বেড়েছে, ততই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাঁর উপাধি। কখনও তাঁকে অভিহিত করা হয়েছে ‘যুবরাজ’ বলে, কখনও বলা হয়েছে ‘সেনাপতি’। তাঁর জন্মদিনে তৃণমূল কর্মীদের একটি গোষ্ঠীর যে সংগঠিত উদ্যাপন দেখা যেত, তা যে কোনও বলিউড তারকার চেয়ে কম নয়। তাঁর কনভয় গেলে স্তব্ধ হয়ে যেত রাজপথ। কিন্তু ক্ষমতার পলেস্তরা খসে পড়ার পরে অভিষেকের কী হবে, তিনি রাজনীতিতে কী ভাবে সক্রিয় থাকবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। হারের পরে সোমবার বিকালে প্রকাশ্যে এসেছিলেন অভিষেক। আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং চত্বরে তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপির সংস্কৃতি দেখছেন!’’ দৃশ্যতই বিধ্বস্ত অভিষেক গাড়িতে উঠে তার পরে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। সেখানে ভবানীপুরের গণনা চলছিল। কিন্তু অভিষেককে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। পরে হেস্টিংসের গণনাকেন্দ্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।
দলের অন্দরে কিছু সংস্কারের চেষ্টা করেছিলেন অভিষেক। বিধানসভা ভোটের প্রার্থিতালিকাতেও তার ছাপ ছিল। কিন্তু সেই সংস্কার যে অনেক দেরিতে শুরু হয়েছিল, তা বোঝা গেল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরে। অভিষেক বরাবরই তৃণমূলের পুরনো সংস্কৃতির বিপরীতে হেঁটেছেন। ‘নতুন’ তৃণমূলের কথা তাঁর কাছে শোনা গিয়েছে। দল চালানোর পদ্ধতি নিয়ে কখনও সখনও নেত্রী মমতার সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যও হয়েছে। তবে সে মতানৈক্য আবার মিটে গিয়েছে সঙ্কটকালে।








