১৮ মে ’২৬ খ্রি. সোমবার
দেশ প্রতিবেদক, দিঘলিয়া :
মাদারীপুরে একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তারা। রবিবার দিবাগত মধ্য রাতে শহরের আমিরাবাদ এলাকা থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। মূল কারণ উদঘাটনে কাজ করছেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।
নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় দাস (৩২), তার স্ত্রী ইশা দাস (২৪) ও তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শান্তনা রানী চন্দের বাড়িতে ভাড়া থাকেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার যতীন বাড়ৈর স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। গতকাল সন্ধ্যার দিকে ওই বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানসহ আসেন মিষ্টির দূর-সম্পর্কের চাচাতো ভাই চিন্ময় দাস। উদ্দেশ্য হিসেবে জানান সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন।
রাত ১০টার দিকে তাদের থাকার ঘর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে মিষ্টি বাড়ৈ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে রাত ১টার দিকে ঘরের রুমের দরজা ভেঙে শিশু সন্তানসহ চিন্ময় দাসকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং স্ত্রী ইশা দাসকে খাট থেকে উদ্ধার করে। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
এই বিষয়ে মিষ্টি বাড়ৈ বলেন, ‘আমার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই চিন্ময় দাস তার পরিবার নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য মাদারীপুরে আসেন। এবং আমার বাসায় উঠেন। কিন্তু গতকাল রাতে তাদের থাকার রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে বার বার ডাকলেও কোনো সাড়া-শব্দ করেনি। পরে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানাই এবং পুলিশে খবর দেই। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে রুমের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে আমরা আরো অধিকতর তদন্ত করে দেখছি যে আসলে কী ঘটনা ঘটেছে।








