০৭ মে ২০২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার, সকাল ৯.৩০ মিনিট

দেশ ডেস্ক :
হত্যা করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বাইকে করে এসে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গাড়িতে চন্দ্রনাথের সঙ্গে ছিলেন তাঁর চালক বুদ্ধদেব বেরাও। তাঁদের দু’জনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাত ১টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। শুভেন্দু এবং চন্দ্রনাথের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে ডিজির। চন্দ্রনাথের স্ত্রী ডিজিকে বলেছেন, “স্বামীকে তো ফিরে পাব না। কিন্তু কারা এটা করল, আমি জানতে চাই। তাদের এনকাউন্টার চাই।’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢোকার সময় উল্টো দিক থেকে একটি গাড়ি তাঁদের রাস্তা আটকায়। এর পর বাইকে করে দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বাইক আরোহীদের মাথায় হেলমেট ছিল। দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চন্দ্রনাথকে বাঁচানো যায়নি। আশঙ্কাজনক বুদ্ধদেবও। অপরাধে ব্যবহৃত ওই চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখানে শিলিগুড়ির নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তা ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল ওই গাড়িটিকে খতিয়ে দেখছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা পরীক্ষা করছেন। রাস্তায় পড়ে রয়েছে চন্দ্রনাথের গাড়ির ভাঙা কাচের টুকরো। এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে দু’টি গুলি লেগেছে। সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি। মৃত অবস্থাতেই তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের চালক বুদ্ধদেবের তিনটি গুলি লেগেছে। একটি বুকের ডান দিকে, একটি পেটে ও একটি ডান হাতে। তাঁর জ্ঞান ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা করে কলকাতার হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
ঘটনার খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে পৌঁছেছেন। শঙ্কর ঘোষ, পীযূষ কানোরিয়া, কৌস্তভ বাগচী, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়–সহ অনেকেই হাসপাতালে জড়ো হয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজেপি কর্মীরা ভিড় জমাচ্ছেন মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে। বিচারের দাবিতে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্ত্বরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ নামানো হয়েছে।
মধ্যরাতে ময়নাতদন্তের জন্য চন্দ্রনাথের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী–সহ বিজেপির একাধিক নেতানেত্রী।
চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল। দলের তরফে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়েছে। কোর্টের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও, চন্দ্রনাথ দীর্ঘ দিন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভবানীপুরে শুভেন্দু ভোটে লড়ার সময় যে দলটি তাঁর হয়ে কাজ করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ। বুদ্ধদেবও ওই দলেরই সদস্য ছিলেন।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবার এবং প্রতিবেশিরা । এই মুহূর্তে তাঁর বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চন্দ্রনাথের বাড়ি পৌঁছেছেন শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। প্রতিবেশীরা বলেন, “হঠাৎ টিভিতে খবর দেখি চন্দ্রকে গুলি করা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ আমরা অবাক হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে। দ্রুত দোষীদের ধরে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”









