১৫ মে ’২৬ খ্রি. শুক্রবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করে বলেছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত প্রায় ৯৯ শতাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটাপন্ন হতে পারে। শুক্রবার হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
লিখিত বক্তব্যে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একসময় সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এর সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার ৪১৯ শিশুর মধ্যে হাম ও হাম উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
তিনি বলেন, হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে পড়া। এ কারণে জনগণকে সচেতন করতে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা সরকারকে কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসা নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে। নিউমোনিয়া শুধু ফুসফুস নয়, মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকে ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য সংক্রমণ নিয়েও হাসপাতালে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
তারা জানান, গবেষণায় দেখা গেছে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৫ থেকে ৮ শতাংশের নিউমোনিয়া হয়। তবে গুরুতর জটিলতা তৈরি হলে মৃত্যুহার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর বা অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে আনতে দেরি হলে জটিলতা বাড়ে। কারণ হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ, পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজিস্ট অধ্যাপক রুহুল আমিন, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভুঁইয়া।







