বিএমএ নেতা ডা: বাহারের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা
১৩ মে “২৬ খ্রি. বুধবার
কাজী শামিম আহমেদ
প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের মামলায় আদালতে জামিন নিতে এসেছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহরুল আলম (বাহার)। কিন্তু দুপুরে প্রথমে জামিন না মঞ্জুর করে। পরে একই আদালতে বিকালে ফের জামিনের আবেদন করলে আদালত শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন।
বুধবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আদালতের বিচারক মো: ফরিদুজ্জামান এ আদেশ দেন। তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং বাদীর সাথে আপোষ করার শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন। সাতজন আইনজীবী শেখ বাহারুল আলমের পক্ষে ছিলেন।
মামলার এজাহারের বর্ণনা দিয়ে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী তাপস পাল জানান, মামলার বাদী মিসেস লুবনা জাহান ‘মেসার্স স্মার্ট এগ্রো বিডির’ প্রোপাইটর। তার সাথে বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা: শেখ বাহারুল আলমের সু-সম্পর্ক ছিল।
সেই সুবাদে আসামি বাদীকে অষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস’ কোম্পানীতে অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। শর্ত সাপেক্ষে তাদের উভয়ের মধ্যে চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। সেই মোতাবেক ‘মেসার্স স্মার্ট এগ্রো বিডি’ চুক্তির পরবর্তী ৩ মাসে উক্ত ‘এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট কোম্পানী লি:’ এ ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে।
চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ি বাদীর প্রতিনিধি কেএম জাহাঙ্গীর আলম ও তাদের কন্যা নাদিয় আলম চুক্তির কার্যকারিতার তারিখ ২০২৪ সালের ২৫ মে থেকে নিয়মিত আসামির ওষুধ ফ্যাক্টকরীতে গমানাগমন করেন। চুক্তির শর্ত মোতাবেক বাদীর প্রতিনিধিরা শেখ বাহারুল আলমের কাছে ওষুধ প্রস্তুতের তথ্য উপাত্ত, ক্রয়-বিক্রয়ের হিসেব এবং উৎপাদিত ওষুধের মজুদ ও বিপনন সম্পর্কে জানতে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্বেও কোনো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেনি।
তিনি আরও জানান, আসামি চুক্তির ১২ নং শর্ত মোতাবেক প্রতি ৯০ দিন পরপর ব্যবসার লাভ-লোকসানের হিসেব-নিকাশ অন্তে লাভ-ক্ষতির ৫৫ শতাংশ ‘এপিসি ফার্মসিউটিক্যালস’ এর ৪৫ শতাংশ ‘মেসার্স স্মাট এগ্রো বিডি’ ভাগ করে নেওয়ার কথা থাকলে প্রথম ৯০ দিন অতিবাহতি হওয়ার পর বাদীর চুক্তির ১২ নং শর্ত মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আসামিকে বারবার অনুরোধ করা সত্বেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বাদীকে বিভিন্ন কথা বলে ঘুরাতে থাকে।
এক পর্যায়ে আসামিকে চাপ দিলে আসামি তার অফিসিয়াল প্যাডে বাদী কর্তৃক প্রদত্ত ৪০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে মর্মে স্বীকার পূর্বক মেসার্স এগ্রো বিডিকে গত ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিমাসে ২ শতাংশ হারে লাভ দেওয়ার কথা স্বীকার করে একটি পত্র প্রেরণ করেন।
এক পর্যায়ে বাদী গত ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ৪০ লাখ টাকা ফেরত চেয়ে আসামির নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আসামি তার প্যাডে একই বছরের ২৬ এপ্রিল আসামি কর্তৃক স্বাক্ষরিত বাদীর বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত পালনে ব্যার্থতার অজুহাত দেখিয়ে বাদী সম্পুর্ণ টাকা প্রতারণা পূর্বক আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। ফলে ২০২৫ সালে ২০ মে আদালতে একটি আবেদন করেন বাদী।
আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য একই বছরের ২৫ মে পিবিআইকে প্রেরণ করেন। পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট আদালত স্থানীয়ভাবে আপোষ করার শর্তে জামিন দেন। আজ বুধবার তার আদালতে হাজিরার দিন ছিল। ডাঃ বাহারুল আলম আজ বুধবার দুপুরে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে তার জামিন না মঞ্জুর করেন আদালত। বিকেল ৫ টার দিকে ৫০ হাজার টাকা জামানত এবং ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিন দেওয়া হয়।
ডা: শেখ বাহারুল আলমের আইনজীবী এ্যাড. শেখ রজব আলী জানান, বয়স ও শারীরিক অসুস্থ্যতা এবং বাদীর সাথে আপোষ করার শর্তে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
শেখ বাহারুল আলম জানান, এটি একটি ষড়যন্ত্র মূলক মামলা। প্রতিপক্ষ আমার মান-সম্মান ক্ষুর্ণ করার জন্য এ কাজটি করেছেন।







