প্রকাশ : ১৯ মে ’২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
দেশ প্রতিবেদক :
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহর বর্ধিতকরণ বিষয়টি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে বলেন আমরা দ্রুত এটি পাশ করিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। শহরের বর্ধিত অংশ নিয়ে আরো আগে কেডিএ’র পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত ছিল বলে মতামত ব্যক্ত করে তিনি বলেন নগর পরিকল্পনায় সমন্বিত কার্যক্রম না থাকলে পরিকল্পিত নগরায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
কেসিসি প্রশাসক মঙ্গলবার সকালে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘‘খুলনা আবাসন প্রকল্প ও নগর ব্যবস্থাপনা:পরিবেশ সংরক্ষণে করণীয়’’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রশাসক ইউরোপের বিভিন্ন শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর সৌন্দর্যের উদাহরণ টেনে বলেন, ময়ূর নদী নিয়েও আমরা তেমনই স্বপ্ন দেখছি। ইতোমধ্যে ময়ূর নদীতে আরো পাঁচটি ব্রীজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যানজট নিরসনের জন্য তিনি সড়কের ওপর ব্যাবসায়ী সামগ্রী রাখা এবং ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির-এর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপাস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ড. আহসানুল কবির। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম ও প্লানিং অফিসার তানভীরুল আলম, কুয়েট-এর অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায় এবং বেলার হেড অব প্রোগাম ফিরোজুল হক মিলন। অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ সুরা মঞ্চ-খুলনার সভাপতি এড. কুদরত ই খুদা, সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ, বেলার বিভাগীয় সম্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, আইআরভি’র সমন্বয়কারী কাজী জাভেদ খালিদ জয়, ছায়াবৃরে প্রধান নির্বাহী মাহবুব আলম বাদশা, কেসিসি’র আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ও সাবেক শিা কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব ইকবাল হোসেন তুহিন, সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু ও দীপংকর রায়, সুজন-এর মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান সুমন, সিয়াম-এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাড. মাসুম বিল্লাহসহ কেসিসি, ওয়াসা, কেডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
সুন্দর নগরী গড়তে হলে বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। সমন্বয়হীন কাজ পরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব নগরীর গড়ার অন্তরায়। এ জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। খুলনায় যত্রতত্র অপরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলে খুলনাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। এসব আবাসন ব্যবসা যাতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে সে জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে বলে সেমিনারে বক্তারা মতামত ব্যক্ত করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কসমূহ প্রশাস্তকরণ, সড়কের মধ্যে স্থাপিত বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তর এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে কেসিসি, কেডিএ, কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ ও বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে পরিদর্শন করেন। কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো: সাবিরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জি এম মাসুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোরতোজা আল মামুন, কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: মাসুদ করিম, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জাকিয়া সুলতানা, বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: আনোয়ারুল মোল্লা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা পলিটেকনিকট ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সহশিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ-২০২৬ এর সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শেখ মুস্তাফিজুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সিটি ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ সাদীকুল ইসলাম সাদী ও উপসহাকারী পরিচালক মোসা: রেক্সোনা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রশাসক জরুরী পরিস্থিতিতে মৌলিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সেবা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ৫৩জন শিক্ষার্থীর মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।







