প্রকাশ : ২৭ মে ’২৬ খ্রি. বুধবার
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক :
যোগাযোগের আধুনিক পথ মেট্রোরেল। একটি সুন্দর এবং নিরাপদ পরিবেশে যাতায়াত করে রাজধানীর হাজার হাজার মানুষ। সেখানে যদি হয় কোরবানীর গরুর হাট; তাহলে রাজধানীবাসীর অবস্থা কি দাড়ায়, এমন প্রশ্ন রাজধানীবাসির। নিরাপদ বা আধুনিকতা নয়, প্রয়েোজনের তাগিদেই এই মেট্রোরেল ব্যবস্থা। এই মেট্রোরেল স্টেশন এখন পশুর হাট। অসহায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ইজারা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। রাজধানীর দিয়াবাড়ি এ পশুর হাট বসিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। মেট্রোরেলের লিফট এবং সিঁড়ির চারিপাশে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রীতিমত গরু বেচাকেনা হচ্ছে। ফলে ঈদের সময় মেট্রোযাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পশুর গোবর আর আবর্জনার দুর্গন্ধে চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে দিয়াবাড়ি স্টেশনে। মেট্রোরেল স্টেশনে পশুর হাট বসানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় বইছে রাজধানী সহ দেশ জুড়ে। বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের।

সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে কোরবানির হাট ইজারা দেয়া হয়। হাটের ইজারা পান বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। তিনি উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনে লিপটের চর্তুরদিকে এবং গোটা স্টেশন জুটে গরুর হাট বসিয়ে দেন। মেট্রোরেলে স্টেশনে গরুর হাটের সংবাদ যখন ভাইরাল হয়ে গেল তখন টনক নড়লো কর্তৃপক্ষের। তারা দ্রুত সাংবাদিকদের এদিক সেদিক বক্তব্য দিতে শুরু করেন। দোহাই দেয়া হলো বৃষ্টির। যা হোক যখন সরকারের সমস্ত অর্গানের কানে পানি গেল তখন তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে হাট সরানোর ব্যবস্থা নেন। পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা রাস্তায় পশুর হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এই মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা আশপাশের কোনো জায়গা হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। দুইদিন আগে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী গরু নিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজে এসে রাস্তা থেকে পশু সরিয়ে হাটের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গেছেন।
বুধবার (২৭ মে) দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্যাপশন : উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনে কোরবানির হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। – দেশ সংযোগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দিন আগের একটি ভিডিও ভাইরাল করে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনারা সরেজমিনে দেখে যান, পশু কেনাবেচা হাটের ভেতরেই চলছে।
তিনি বলেন, রাস্তার ওপর পশু চলে আসায় কিছু জায়গা নোংরা হয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এখানে সার্বক্ষণিক সিটি করপোরেশনের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। মেট্রোরেলের আশপাশে কোনো পশু কেনাবেচা চলবে না। আমরা সরিয়ে দিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার বলেছি, নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট বসবে না। যখনই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

ডিএনসিসি প্রশাসক সোমবার (২৫ মে) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন স্থায়ী এবং অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে যান। তখন দেখা যায়, উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে ডাইভারশন দিয়ে পশু বেঁধে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখে প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোনোভাবেই যেন রাস্তায় পশুর হাট বিস্তৃত না হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন।
রাজধানীর দিয়াবাড়ি পশুর হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কোরবানির পশু বিক্রি করা হচ্ছিল। তা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এসময় সংশ্লিষ্ট পশুর হাটের ইজারাদারকে তাৎক্ষণিক ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন প্রশাসক। পরে ইজারাদারকে সড়কে হাট না বসানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করারও নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে ইজারাদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে বৃষ্টির কারণে কিছু পশুর মালিক সাময়িক সময়ের জন্য মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু রেখেছিলেন। তারা ডিএনসিসির নির্দেশনা মেনে চলছেন এবং রাস্তায় যেন কোনোভাবেই পশু না রাখা হয় সে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।









