প্রকাশ : ০২ জুন ’২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। এ পদে বাংলাদেশের পক্ষে প্রার্থী ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে এই পদে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদকক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানও হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছে ৯১ ভোট। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচন মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের থেকে ঘূর্ণন পদ্ধতিতে প্রতি বছর সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
গ্রুপগুলো হচ্ছে– আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক, পূর্ব ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য। এবার ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সভাপতির পালা। শুরুতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাইপ্রাস ও বাংলাদেশ। তবে পরবর্তীতে ফিলিস্তিন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ফিলিস্তিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
সদস্যদেশগুলোর ভোটে খলিলুর রহমান নির্বাচিত হয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। প্রায় ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
এদিকে গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন খলিলুর রহমান। লিখিত বক্তৃতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি হবেন সবার সভাপতি। এ সময় তিনি তাঁর ছয়টি পরিকল্পনার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ওই অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চেয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। তখন খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর প্রধানমন্ত্রী এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদ গ্রহণের জন্য তাঁকে এক বছরের রেহাই দেওয়া হবে। পদত্যাগই একমাত্র বিকল্প নয়; বরং তিনি ছুটিতেও যেতে পারেন।








