০৪ জুন ’২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার
মনিরুল হক মনি, বাগেরহাট :
উপজেলার অর্ধেক নলকূপের পানিতেই সহনীয় মাত্রার ১০ গুণ বেশি আর্সেনিক। নলকূপে লাল রং করে দেওয়ার পরও সেগুলোর পানি পান করছে মানুষ। নিরাপদ পানির জন্য সরকারের নলকূপ স্থাপনও দুই বছর ধরে বন্ধ। বাগেরহাটের ফকিরহাটে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তিন বছর আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপে উপজেলায় প্রায় ৫০ ভাগ গভীর-অগভীর নলকূপের পানিতে স্থানীয় মাত্রার ১০ গুণ বেশি পর্যন্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কিন্তু এরপর সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ পানির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এর মধ্যে দুই বছর ধরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গভীর নলকূপ স্থাপনও বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক পানি পরিশোধন ব্যবস্থা বা রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্ল্যান্টও রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। ফলে অসহনীয় মাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গভীর-অগভীর নলকূপে লাল রং করে দেওয়ার পরও সেগুলোর পানি পান করছে মানুষ। এতে উপজেলা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ফকিরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলায় ২৮ হাজার ৪২৬টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৭১টি নলকূপে অতিমাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জন্য ২০৮টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলায় মাত্র ৯৬টি নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর অধিদপ্তর ফকিরহাটে কোনো নলকূপ বরাদ্দ দেয়নি।







