প্রকাশ : ০৯ জুলাই ’২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার
দেশ প্রতিবেদক : :
বাংলাদেশের বাজারে তিনটি কোম্পানির ব্রান্ডের লবনের আধিপত্য বিদ্যমান। এগুলো হলো- এসিআই, তীর ও ফ্রেশ। এ কোম্পানি তিনটি খুচরা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে হঠাৎ করেই পাইকারী পর্যায়ে লবনের দাম বৃদ্ধি করে দিয়েছে। খুচরা মূল্য ৪২.০০ টাকায় নির্ধারিত থাকলেও দাম বৃদ্ধি পাইকারী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোম্পানি তিনটি কেজিতে নিচ্ছে যথাক্রমে এসিআই ৩৭.৪০ থেকে ৩৭.৬০ টাকা, তীর ৩৭.০০ এবং ফ্রেশ ৩৬.০০টাকা।
মেগাশপগুলো খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রতি কেজি লবন ৪০ টাকায় বিক্রি করছে। আর মেগাসপগুলোর কারণে খুচরা দোকানিরাও প্রতি কেজি লবন ৪০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে এসিআই লবন বিক্রি করে শতকরা লাভ পাওয়া যাচ্ছে ৬.৫০ শতাংশ, তীর লবনে ৮.১০ শতাংশ এবং ফ্রেশে ১১.১১ শতাংশ হারে। সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এসিআই লবন কেনার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকায় দোকানিরা ইচ্ছা করলে অন্যান্য কোম্পানির লবন খুব একটা বিক্রি করতে পারে না।
আমরা ভোক্তা সংগঠনের পক্ষ থেকে লক্ষ্য করে আসছি লবন উৎপাদন মৌসুমে লবন চাষীরা একবস্তা লবন ১২০.০০ থেকে ১৩০.০০ টাকায় বিক্রি করতে পারে না। বস্তায় ক্ষেত্র বিশেষ কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ কেজি লবন থাকে। লবন চাষীরা বাধ্য হয়ে হাড়ভাঙ্গা খাটুনির লবন পানির দরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। লবনের প্রকৃত মূল্য না পাওয়ায় চাষীরা অনেক ক্ষেত্রে লবন চাষে নিরুৎসাহিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় মহাজন ও প্রক্রিয়াজাতকারী লবন ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
ভোক্তা সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি লবন বাজারজাতকারি বড় বড় কোম্পনির ভেকুয়াম লবন তৈরি এবং আয়োডাইজ করে সুদৃশ্য মোড়কে লবন মোড়কজাত করে চড়ামূল্যে বিক্রির ফলে উৎপাদনকারী এবং সাধারণ ভোক্তা এবং খুচরা বিক্রেতারা মারাতœক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা উত্তরণ এবং বাজারে লবনের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারী পর্যায়ে হস্তক্ষেপ একান্তভাবে প্রয়োজন।
আমাদের প্রত্যাশা বিসিক ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের লবন উৎপাদনকারি চাষী এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনে লবন ব্যবসায়ীদের অযাচিত ব্যবসার হাত থেকে রক্ষা এবং খুচরা বিক্রেতাদের স্বার্থ সংরক্ষণে এখনই আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন। দেশে লবনের চাহিদা মিটানোর জন্য উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করবেন।







