প্রকাশ : ০৮ জুলাই ’২৬ খ্রি. বুধবার
দেশ প্রতিবেদক : :
খুলনা যেন এখন এক অপরাধের নগরী। ২০২৫ সালের ৮৬ খুনের রেকর্ডের পর সেই ধারা চলছে ২০২৬ সালেও। প্রথম ৬ মাসে খুন হয়েছেন ৩৭জন। তাদের রক্ষীদের এই জেলার রূপ নিয়েছে আতংকের জনপদে।আইন শৃংখলা বাহিনীর নির্লিপ্ততায়, বিচারিক দীর্ঘ সূত্রিতা আর মাদককে দায়ী করছেন রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট জনেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা বলছেন পুলিশ।

রূপসা উপজেলার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহ, গেল ৪ঠা মার্চ খুলনা মহানগরীতে কেনাকাটা করতে এসে আতাতায়ীদের গুলিতে খুন হন স্ত্রী কন্যার সামনে।১৪ জুন নগরীর দৌলতপুরে মসজিদের ভেতরেই ঢুকে গুলি করা হয় ব্যবসায়ী শেখ লোকমান হাকিমকে।অতর্কিত গুলিতে আহত হন আরেক মুসল্লি।২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পযন্ত খুলনায় ১২৩টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এরমধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকাতেই খুন হন ৫২ জন। তথ্য বিশ্লেষণ বলছে সবচেয়ে বেশী হত্যা সংঘটিত হয়েছে মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে, পারিবারিক আর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক। মাদক ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের পাশাপাশি চাঁদাবাজি আর কিশোর গ্যাং-এর দৌরাত্ম অতিষ্ঠ করে তুলেছে নগরবাসিকে।
খুলনায় কিন্তু খুন, রাহাজানি আর হত্যা এ গুলো কিন্তু চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।খুলনার মানুষের জন্য উৎকণ্ঠার বিষয় বলে এলাকাবাসী জানান।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাবু বলেন, খুলনায় আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি খুজে পাচ্ছি না।
সন্ধ্যার পরে বের হতে আমরা ইনসিকিউর ফিল করছে। পরিবারের সদস্যদেরকেও বের হতে নিষেধ করে দিয়েছি বলে জানান শিক্ষক মুকুল রায়।
খুলনায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতিতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা।
খুলনাতে সম্প্রতি কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ঢুকে গুলি করছে, এখানে লাশ পাওয়া যাচ্ছে, সারা দেশে নানান পরিস্থিতি বললেন জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মসজিদের ভেতরে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও একজন মানুষ নিরাপদ নয় বলে জানালেন খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও খুলনা জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হাসান বাপ্পি। এজন্যে আইন শৃংখলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ারও আহবান জানান তিনি।
তবে পুলিশের দাবি পরিস্থিতি সামাল দিতে খুলনা জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।এবং ইনশাল্লাহ আমরা আশাবাদি যে খুলনাবাসিকে আমরা ভালো রেজাল্ট দিতে পারবো। খুলনাবাসি যাতে ভালোভাবে শান্তিতে থাকতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা সবাই কাজ করছি।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে আইন শৃংখলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের জোর বিশিষ্টজনদের।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মাসুম রশিদ বলেন, যারা মাদক এবং সন্ত্রাসের সাথে জড়িত এদের প্রতি বেশ কঠোর ভাবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইন শৃংখলা সেটাও আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে একটা সামাজিক সুস্থতার দিকে আমরা ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে পারবো।
পুলিশ সহ প্রশাসনের যতগুলো শাখা মাঠে আছে সিভিল প্রশাসন সহ সকলের পেশাদারিত্ব আন্তরিকতা সাথে সাথে আমরা যারা নাগরিক আছি আমাদেরও এখানে দায়িত্ব রয়েছে, সে দায়িত্ব পালন করা, প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করা উচিত বলে মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নাগরিক নেতা এ্যাড. বাবুল আক্তার।
সন্ত্রাস প্রতিরোধে প্রশাসনের সকল প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিবিদরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবে, নিরাপদ হবে নগরী এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।







