০৮ মে ’২৬ খ্রি. শুক্রবার ৮.৪৫ মিনিট
দেশ প্রতিবেদক :
তিন বছরের শিশু কেয়া। থ্যালাসেমিয়া বা বংশগত রক্তরোগে আক্রান্ত সে। মাত্র এক বছর বয়স থেকেই তাকে প্রতি মাসে রক্ত নিতে হয়। কিন্তু নিয়মিত রক্ত জোগাড় করা এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পরিবারের জন্য এক লড়াই। কেয়ার মতো দেশের হাজারো পরিবারকে এই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ ৮ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আর অদৃশ্য নয়: যাদের রোগ ধরা পড়েনি তাদের খুঁজে বের করি, অবহেলিতদের পাশে দাঁড়াই’।
বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘জাতীয় থ্যালাসেমিয়া জরিপ–২০২৪’ অনুযায়ী, দেশের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়া ও হিমোগ্লোবিন–ই রোগের বাহক। অর্থাৎ, নিজের অজান্তেই প্রায় দুই কোটি মানুষ ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সহযোগিতায় বিবিএস ৬৪ জেলা ও ৪৫৪ উপজেলার ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আট হাজার মানুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে এ তথ্য পেয়েছে।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ১১ হাজার ৪০ জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়। বর্তমানে দেশে আনুমানিক পাঁচ লাখ ৫২ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে, যাদের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়মিত রক্তসঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল।
বাহক মানেই রোগী নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। শরীরে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ত্রুটির কারণে আক্রান্তদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। ফলে দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস, অরুচি, পেট ব্যথা ও শারীরিক বৃদ্ধিতে ধীরগতির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে বাহক মানেই রোগী নয়। অধিকাংশ বাহক স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ড. এম এ মুহিত বলেন, সাধারণ মানুষের রক্তকণিকা ১২০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তকণিকা মাত্র ৩০ দিন টিকে থাকে। মা–বাবা দুজনই বাহক হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ এবং বাহক হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চিফ মেডিকেল অফিসার সাজিয়া ইসলাম বলেন, যথাযথ চিকিৎসা না পেলে রোগীর হিমোগ্লোবিন ৩ থেকে ৪ গ্রাম পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এতে তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং হৃৎপিণ্ড, যকৃতসহ বিভিন্ন অঙ্গ বিকলের ঝুঁকি বাড়ে।
প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকদের মতে, থ্যালাসেমিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি সম্পূর্ণ বংশগত। সাধারণত রক্ত পরীক্ষা ও হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক শনাক্ত করা সম্ভব। তাই বিয়ের আগে স্ক্রিনিংকে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা. সাজিয়া ইসলাম বলেন, বাহক শনাক্ত করে দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে এড়ানো গেলে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রিনেটাল টেস্টের মাধ্যমে গর্ভের শিশুর থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা, তা আগেই জানা যায়।









