০৮ মে ’২৬ খ্রি. শুক্রবার ৮.৪৫ মিনিট
দেশ প্রতিবেদক :
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে তিনি বিধানসভা ভেঙে দেন। এতে নতুন বিধানসভা গঠনের পথ প্রশস্ত হলো। এর আগে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।
গতকাল কলকাতার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতার বাড়িতে গিয়ে অখিলেশ যাদব বলেন, ‘মমতা হারেননি, তাঁকে হারানো হয়েছে।’ বাড়ির দরজায় পৌঁছালে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বড় দল সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা অখিলেশকে অভ্যর্থনা জানান তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক নেতা ও মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে অভিষেককে বুকে জড়িয়ে ধরেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী। পিঠ চাপড়ে অখিলেশ বলেন, খুব ভালো লড়াই করেছে তৃণমূল।
এরপর বাড়ির ফটকে দাঁড়ানো ৭১ বছরের মমতাকে দেখামাত্রই তাঁর গায়ে উত্তরীয় ও শাল জড়িয়ে সম্মান জানান অখিলেশ। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধানসভার ভোট নিয়ে সরব হন তিনি। শুরুতেই অখিলেশ বলেন, ‘তিনি হারেননি। নির্বাচনে বেইমানি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতে হবে। যখন স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে, তখন তিনি জিতেছেন। তবে এবার বিজেপি, কমিশন, ওদের সঙ্গী, আন্ডারগ্রাউন্ডের লোকজন যা করেছে, তা বেইমানি।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপি উত্তরপ্রদেশে বেইমানির ট্রায়াল দিয়েছিল। পুরো ভোট লুটে নিয়েছে। বাংলায় সেটাই করল।’
অখিলেশ বলেন, বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে যখন ভোট হয়েছে, তখন কোনো অফিসারকে সরানো হয়নি। আর বাংলায় তখন পুরো স্ট্রাকচার বদল করে নিজেদের মতো সাজানো হয়েছে। বুলেট দিয়ে ভয় দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে। পুরো ভোট প্রক্রিয়া উল্টে দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের বড় দুই শরিক পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস ও তামিলনাড়ুতে ডিএমকে। বিধানসভা নির্বাচনে দুই দলেরই বড় হার হয়েছে।
গত ৫ মে মেয়াদ ফুরিয়েছে তামিলনাড়ুর বিধানসভার। পরদিন বুধবার লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি জানায় থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজগাম বা টিভিকে। কিন্তু টিভিকেকে ফিরিয়ে দেন রাজ্যপাল। ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপাল তাঁকে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। ফলে ৭ মে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যপালের সঙ্গে আবার দেখা করেন বিজয়। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব? নির্বাচনে বিজয়ের টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়েছে। কংগ্রেসের সমর্থনে এ সংখ্যা বর্তমানে ১১৩–তে পৌঁছেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র পাঁচটি কম। বিজয়ের দাবি, বাম দল ও অন্যান্য আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। তিনি বলেন, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’
ইতোমধ্যে বিবৃতি জারি করে এ তথ্য জানিয়েছেন মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। রাজ্যপালের এ সিদ্ধান্তের ফলে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকালের আনুষ্ঠানিক ইতি পড়ল। নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ প্রশস্ত হলো। এর অর্থ হলো, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা এখন আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন।
শুভেন্দুর পিএর শরীরে ৫ গুলি, হত্যাকারীরা অন্য রাজ্যের
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আততায়ীদের গুলিতে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুতে রহস্য দানা বাঁধছে। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানার কুলুপ গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার আগে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
গত বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের আবাসিক এলাকা শুভম গার্ডেনিয়ারের সামনে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেওয়া হয় চন্দ্রনাথকে। হত্যার তদন্তের জন্য এসটিএফ, সিআইডি ও আইবিকে নিয়ে গড়া হয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চন্দ্রনাথ খুনে অন্য রাজ্য থেকে এসেছিল শার্প শুটার। আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন সিআইডির কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরের সিসিটিভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, আততায়ীরা বিমানে পালাতে পারে। তাই খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি অনুসরণ করছিল আততায়ীরা। ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাইকে সাত দুষ্কৃতকারী এলাকা ছাড়ে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলেছে, পরপর গুলিতে হার্ট ফুটো হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রের খবর, চন্দ্রনাথের শরীরে পাঁচটি গুলি লাগে; একটি লাগে তাঁর বুকপকেটে থাকা আইফোনে। চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা বর্তমানে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার সকালেই অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়। বুদ্ধদেবের ডান হাত ও জয়েন্ট হাড়ে গুলি লাগে। লিভারে একটা গুলি লাগে, গুলি লাগে ফুসফুসেও।








