প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ’২৬ খ্রি.
সূত্র : নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশ প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড় মৌজায় অবস্থিত সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক (৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার) নির্মাণসংক্রান্ত সব কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত মাসে ওই রিট করেছিল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেলা জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের’ অধীন ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি সত্ত্বেও সংরক্ষিত বনভূমির অসংখ্য গাছপালা ও পাহাড় কেটে ওই সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রাখা হলে জনস্বার্থে রিটটি করা হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ ও তা রোধে ব্যর্থতা-নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের অধীন সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল ও ইতিমধ্যে তৈরি করা সড়কের পাকা অংশ অপসারণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে পাহাড় মৌজার (১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর) সংরক্ষিত বন এবং সেখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
পরে আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ভূমিসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বনসংরক্ষক, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেলা জানায়, ১৯৫৪ সালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি বন বিভাগের কাছে ১০০ বছরের জন্য হস্তান্তর করা হয় (তৎকালীন কৃষি ও ত্রাণ অধিদপ্তরের গেজেট নোটিফিকেশন নম্বর ২৫২৯ মাধ্যমে)। ১৯৫৭ সালে ১২২২ নম্বর গেজেট ও বন আইনের ২০ ধারার অধীন উল্লেখিত ভূমি সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করা হয়; যেখানে বন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ২০২৬ সালের বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন এবং বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বনভূমি ও বন্য প্রাণীর সুরক্ষায় প্রাকৃতিক বনের বনবিরুদ্ধ ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বনভূমি সংরক্ষণে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিও (অনুচ্ছেদ ১৮ক) রয়েছে। সংরক্ষিত বনভূমি আরএস ও বিএস রেকর্ডে বন বিভাগের নামে খতিয়ানভুক্ত। সংরক্ষিত এই বনভূমি জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ।
বেলার ভাষ্য, বন রক্ষায় আইনি বিধান লঙ্ঘন করে ও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের’ অধীন ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রস্তাবিত এ সংযোগ সড়কের ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ১২ নম্বর পাহাড় মৌজায় অবস্থিত সরকার ঘোষিত সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা গ্রহণ ছাড়াই কার্যক্রম চলমান রেখেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।









