প্রকাশ : ৩০ জুন ’২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
দেশ প্রতিবেদক, মোংলা : :
মোংলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বাদী ও তার স্বামীকে প্রাণনাশের ভয় দেখানো, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না পাঠাতে অভিভাবকদের চাপ প্রয়োগ এবং এলাকায় মব সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। মামলার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ১৭ জুন মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ‘পশ্চিম বাজিকরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফারুকুল ইসলাম মৃধা ও জাকির হাওলাদারের নেতৃত্বে ওই স্কুলের অভ্যন্তরে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং বাধা দিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত নারী শিক্ষিকা নাজনী খানম (৪৮) কে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ফেলে বিদ্যালয় ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমিন খানম বাদী হয়ে মোংলা থানায় আইন শৃংখলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে স্থানীয় ফারুক মৃধাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে গত ১০ জুন মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মামলা দায়েরের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার বাদী নাজমী খানম অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা ও তাদের সহযোগীরা তাকে এবং তার স্বামীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তারা প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং মামলা না তুললে ভয়াবহ পরিণতিরও হুমকি দিচ্ছে। এমনকি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল করে সন্তানদের স্কুলে না পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ এলাকায় একটি মব তৈরি করে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাদের ভয়ভীতির কারণে অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া তার স্বামী মোঃ তরিকুল মৃধার মালিকানাধীন একটি চিংড়ি ঘেরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মাছ লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বিদ্যালয় কেন্দ্রিক এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার প্রধান আসামি ফারুক মৃধা দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি যাতে প্রার্থী হতে না পারেন সে জন্য একটি কুচক্রী মহল তার নামে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামীরা পলাতক, তারা এখন এলাকায় নেই, তাই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। বাদীপক্ষ নতুন করে হুমকি ও ভয়ভীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সেগুলোরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







