১৭ মে ’২৬ খ্রি. রবিবার
দেশ প্রতিবেদক :
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে স্বাস্থ্য, পরিবেশ সচেতনতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবকের যৌথ ভূমিকা অপরিহার্য। বিদ্যালয়ের টিফিনে পুষ্টিকর খাবার অভ্যাস গড়ে হবে। পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করতে হবে। শারীরিক শিক্ষার ক্লাস নিয়মিত নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের হালকা ব্যায়াম বা খেলাধুলায় উৎসাহিত করা। স্বাস্থ্যবিধি (হাত ধোয়া, দাঁত মাজা, নখ কাটা) সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতা তৈরি করে তুলতে হবে। কোমল পানীয় দেওয়া থেকে বিরত থাক হবে।পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের বিষয়টি নিশ্চিত করা। কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিক্ষককে অবহিত করা একান্ত প্রয়োজন। গাছ লাগানোর গুরুত্ব বোঝানো এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাগান করানো। শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস তৈরি করা। প্লাস্টিক বর্জনের কুফল এবং পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার বাস্তবিক পাঠ দেওয়া। শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যহীন আচরণ করা এবং মানবাধিকার, সততা ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গল্প শোনানো। কোনো নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বদলে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বুঝাতে হবে। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ, খুলনার আলোচনা সভায় বক্তারা।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মোহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জনউদ্যোগ, খুলনার আয়োজনে “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক অগ্রগতিতে শিক্সক ও অভিভাবকদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মো: জমিরউদ্দিন তালুকদার। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের আহবায়ক শিক্ষকনেতা মানস রায়। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা সিভিল সোসাইটির আহবায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী এ্যাড: মোমিনুল ইসলাম, শিক্ষিকা ফিরোজা পারভীন,ঝর্ণা পাটারী,বিবেকানন্দ মিস্ত্রি, মুর্শিদা পারভীন, ফারজানা ইসলাম, ফেরদৌসী রহমান, জাহানারা, জলিয়া পারভীন, অভিভাবক সরজিত সরকার, সুজন কুমার রায়, গৌতম মজুমদার,রিপা রহমান, মাকসুদা মাহমুদ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাড়িতে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার অভ্যাস তৈরি করা এবং অপচয় রোধ করতে শেখানো। পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে উৎসাহিত করা।ছুটির দিনে শিশুদের নিয়ে প্রকৃতি পরিভ্রমণ বা পরিবেশ পরিষ্কারের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। দলবদ্ধ কাজ ও সহপাঠী নির্ভর শিখন চালু করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বাড়ানো। শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যহীন আচরণ করা এবং মানবাধিকার, সততা ও বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার গল্প শোনানো। কোনো নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বদলে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বোঝানো। বাড়িতে বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার একটি ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি সহায়তার মনোভাব তৈরি করা। সামাজিক অনুষ্ঠান ও উৎসবে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে মেলামেশা বাড়াতে উৎসাহিত করা।শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মনিটরিং করা উচিত। শিক্ষার ধারণা ও শিক্ষক যোগ্যতা খেলাধুলা ও শরীর চর্চার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা ।








