০৫ মে ২০২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
দেশ সংযোগ ডট কম.
দেড় দশক সরকার চালানোর পরে মমতার দলের কাঁধে যেমন স্থিতাবস্থা–বিরোধিতার ‘স্বাভাবিক’ বোঝা ছিল, তেমনই বেশ কিছু জায়গায় বিধায়কদের ঘিরে স্থানীয় স্তরেও বিরোধিতা এবং ক্ষোভ ছিল।
সংস্কারের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বর্জনের গণস্রোতের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই চেষ্টা ভেসে গেল। রাজ্যে ৭৪টি আসনে বিদায়ী বিধায়কদের টিকিট না–দিয়ে প্রার্থী বদল করেছিল তৃণমূল। তার মধ্যে ৫১টিতেই হেরে গিয়েছে প্রাক্তন শাসকদল। যে ১৫ জন বিধায়কের আসন বদল করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে তিন জন ছাড়া সকলেই হেরেছেন।
প্রার্থিতালিকায় এ বার সংস্কার করেছিল তৃণমূল। বেশ কয়েক জন বিধায়ক এবং কয়েক জন মন্ত্রী যে টিকিট পাবেন না, তা আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এক ধাক্কায় সেই সংখ্যা যে ৭৪ হয়ে যাবে, তা তৃণমূলেরও অনেকের ধারণার মধ্যে ছিল না। শুধু ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট না–দেওয়াই নয়, ১৫ জন বিধায়কের আসনও বদল করে দিয়েছিলেন মমতা–অভিষেক। এই পরিমাণ বদল তৃণমূল তৈরির পর কখনও দেখা যায়নি। সে দিক থেকে এই বিধানসভা ভোট ছিল তৃণমূলের সেই আগ্রাসী সংস্কারনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’। যা শুধু হোঁচটই খায়নি। মুখ থুবড়ে পড়েছে।
২০২১ সালে জেতা বিধায়কদের মধ্যে বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য নাম মনোরঞ্জন ব্যাপারী (বলাগড়), সাবিত্রী মিত্র (মানিকচক), সৌমেন মহাপাত্র (তমলুক), কাঞ্চন মল্লিক (উত্তরপাড়া), মঞ্জু বসু (নোয়াপাড়া), সূর্য অট্ট (নারায়ণগড়), অসিত মজুমদার (চুঁচুড়া), সুদীপ্ত রায় (শ্রীরামপুর), রত্না দে নাগ (পান্ডুয়া) চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (বারাসত), নির্মল ঘোষ (পানিহাটি), বিবেক গুপ্ত (জোড়াসাঁকো), নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার মানিক ভট্টাচার্য (পলাশিপাড়া) এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও জেলবন্দি জীবনকৃষ্ণ সাহা (বড়ঞা)। ফলাফল বলছে, এই সবক’টি আসনেই জিতেছে বিজেপি।









