নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা :
আপন চাচাতো ভাই সুখেন চন্দ্র সরদারের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন স্ত্রী রূপা। এ কারণেই সুখেন চন্দ্র সরদারকে হত্যা করেন প্রকাশ সরদার। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ভড়েঙ্গার চক এলাকার আলোচিত সুখেন চন্দ্র নরদার হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। রায়ে প্রকাশ সরদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদন্ড দিয়েছেন আদালত। তবে স্ত্রী রূপা কালাস পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার খুলনার সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক চাঁদ মোহাম্মাদ আব্দূল আলিম আল রাজী এ রায় ঘোষণা করেন্। রায়ে প্রকাশ সরদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদন্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় অপর আসামি প্রকাশ সরদারের স্ত্রী রূপা সরদারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের পিপি চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার।
মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রকাশ সরদার (৪০) উপজেলার খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় দিনমজুর। দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী রূপা (৩৩) সরদারের সঙ্গে সুখেন সরদারের (৩৫) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রকাশ ও সুখেন আপন চাচাতো ভাই।
বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এরই জেরে প্রকাশ সরদার ২০২২ সালের ৭ মার্চ বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও পরে গোপনে ফিরে এসে ওঁত পেতে থাকেন সুকেন সরদারের ঘের বাড়িতে।
এরপর সুকেন সরদার ঘের বাড়িতে প্রবেশ করলে গুপ্তি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রকাশ। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৮ মার্চ নিহতের মা আমেলা রানী সরদার পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় স্বামী ও স্ত্রীকে আসামি করা হয়। একই বছরের ১ জুন তদন্ত শেষে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ওই বছরের আগস্টে আদালতে চার্জ গঠন হয়। মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার চলাকালীন সময়ে আসামি প্রকাশ সরদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। মামলায় ১৭ স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরপর সাওয়াল জরয়াব শেষে আজ বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত।









