০৪ মে ’২৬ খ্রি.
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন বিরোধীতা মানেই মৃত্যু অথবা ধ্বংস। তারই ধারাবাহিকতায় মৃত্যু হয় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী। এর আগে একই ভাবে জীবন দিতে হয়েছিলো ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে। তবে আমেরিকা সাদ্দাম এবং গাদ্দাফিকে হত্যা করে সহজে ইরাক ও লিবিয়া নিয়ন্ত্রনে নিতে পারলেও মাথা গুজতে পারছে না ইরানে। ইরানের পাশে যেমন দাড়িয়েছে চীন, রাশিয়া। তেমনি দুর থেকে ইশারায় সম্মতি দিচ্ছে পশ্চিমা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের কাছে আমেরিকার এই চাতুরতা তেমন একটা ভালো লাগছে না এমনটাই বর্হিপ্রকাশ পশ্চিমাদের। তদুপোরিও মরিয়া হয়ে ইরানের উপর যৌথ হামলা আমেরিকা ও ইসলাইলের।
মধ্য প্রাচ্যের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন ফেব্রুয়ারির শেষ দিনেই। তেহরানের আকাশে যখন ভোরের আলো কেবল ফুটতে শুরু করেছিলো, ঠিক তখনই মার্কিন ও ইসরাইলী বাহিনীর একটি সমন্বিত হামলা খামেনীর সুরক্ষিত কমান্ড সেন্টারকে গুড়িয়ে দেয়। অপারেশন এ্যাপেক থিয়রী নামের এই অভিযানে স্টার্লথ যুদ্ধ বিমান ও শক্তিশালী ব্যাংকার বাষ্টার বোমা ব্যবহার করা হয়। ৮৬ বৎসর বয়সী এই নেতা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের শাসনভার একক হাতে সামলাচ্ছিলেন। এই ঘটনা নতুন নয়; এর আগেও প্রতাপশালী বিশ্বনেতাদের ঠিক একই ভাবে কোন না কোন সামরিক অভিযানে হত্যা করা হয়েছিলো। ঠিক একই ভাবে ২০১১ সালের অক্টোবরে লিবিয়ার মরুভূমিতে শেষ হয়েছিলো মুয়াম্মার গাদ্দাফির ৪২ বছরের রাজত্ব। ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলায় তার পালানোর পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায় এবং শেষ পযন্ত এক জরাজীর্ণ পাইপের ভেতরে তাকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো।
তবে আমেরিকার এই সামরিক অভিযান কতটা সফল হবে সেটা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সামরিক অভিযানে সফলতার সাথে ইতি টানতে পারবে তো আমেরিকা? নাকি কৌশলে পিছু হটতে হবে মার্কিনীদের এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক সচেতন মহলে। তাদের ধারণা, অতীতের ইতিহাস সব সময়ই ইরানের পক্ষে ছিলো। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ইরানের ভৌগলিক অবস্থানই সার্বভেৌমত্ব রক্ষায় সব সময়ই সহায়তা করে আসছে। সেখানে যেমন উত্তপ্ত মরুভূমি, তেমনি সুউচ্চ পর্বতমালা পরিবেষ্টিত। ইরান চাইলে সারা বিশ্বে সংকট সৃষ্টি করতে পারে এক হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তাদের কাছে যেমন রয়েছে মানব সৃষ্টি পারমানবিক অস্ত্র, তেমনি প্রাকৃতিক সমুদ্র পথ। এমনই অবস্থায় মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকা। এই যুদ্ধই কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথকে এগিয়ে নিবে, নাকি বিশ্ব শান্তি স্থাপনে বিশেষ কোন ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরান ও আমেরিকার দিকে।








