বৃহস্পতিবার, আগস্ট 27, 2026
  • Login
  • যোগাযোগ
দৈনিক দেশ সংযোগ
  • 🏠 হোম
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন
  • মতামত
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • 📰 ই-পেপার
No Result
View All Result
দৈনিক দেশ সংযোগ
📰ই-পেপার
No Result
View All Result
Home অর্থনীতি

টেংরাটিলায় আবারও গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত

গ্যাস কূপ খনন করতে গিয়ে দুই দফা ব্লোআউট বা বিস্ফোরণের শিকার ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের টেংরাটিলায় দুই দশক পর আবারও গ্যাস অনুসন্ধান করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশ সংযোগ by দেশ সংযোগ
মে 9, 2026
in অর্থনীতি
0
0
SHARES
0
VIEWS

০৯ মে ’২৬ খ্রি. শনিবার সকাল ১১:০০ মিনিট

দেশ ডেস্ক :

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়াত্ব তেল গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্স এই অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

২০১৬ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্সের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিস্পত্তি হওয়ার পর টেংরাটিলায় নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, টেংরাটিলায় প্রাথমিকভাবে দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা হয়েছে এবং বাপেক্স ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে।

২০০৫ সালে দুর্ঘটনার পর নানা জটিলতায় গত ২১ বছরে ছাতক ও টেংরাটিলায় গ্যাসক্ষেত্রে কোনো অনুসন্ধান বা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। টেংরাটিলার কূপ খননের প্রকল্প প্রস্তাব সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আগামী বছরই নতুন কূপ খনন শুরু করতে চায় বাপেক্স।

টেংরাটিলা দুর্ঘটনার জন্য নাইকো রিসোর্সেসকে দায়ী করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত ইকসিড ৪২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

মুরগীর ফিড কারখানা নয়; ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পাট কল হিসেবে চালু করতে হবে – মানববন্ধনে বক্তরা
শুক্রবার (৭ আগষ্ট) বিকেল ৫ টায় ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে ফিড কারখানা চালু করার প্রতিবাদে এবং ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পাট কল হিসেবে চালুর দাবিতে মানববন্ধন। -- দেশ সংযোগ

মুরগীর ফিড কারখানা নয়; ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পাট কল হিসেবে চালু করতে হবে – মানববন্ধনে বক্তরা

আগস্ট 7, 2026
মুরগীর ফিড কারখানা নয়; ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পাট কল হিসেবে চালু করতে হবে – মানববন্ধনে বক্তরা
শুক্রবার (৭ আগষ্ট) বিকেল ৫ টায় ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে ফিড কারখানা চালু করার প্রতিবাদে এবং ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পাট কল হিসেবে চালুর দাবিতে মানববন্ধন। -- দেশ সংযোগ

মুরগীর ফিড কারখানা নয়; ক্রিসেন্ট জুট মিলকে পাট কল হিসেবে চালু করতে হবে – মানববন্ধনে বক্তরা

আগস্ট 7, 2026

কানাডার তেল গ্যাস কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস টেংরাটিলায় গ্যাস কূপ খনন করতে গেলে ২০০৫ সালের জানুয়ারি এবং জুন মাসে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে টেংরাটিলার ব্লো আউটের কারণে আনুমানিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়েছে। নীতিনির্ধারক এবং ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন, টেংরাটিলায় দশটি স্তরে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা ছিল। পুড়ে ক্ষতির পর এখনো কয়েকটি স্তরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভূতত্ত্ববিদ ড. বদরুল ইমাম মনে করেন, এই ভূগঠনে গ্যাসের মজুত আছে এবং কূপ খনন করে সেখানে গ্যাস অনুসন্ধান করা দরকার।

“বিস্ফোরণ হওয়ার ফলে এটারতো (টেংরাটিলা) আর ডেভলপমেন্ট করা হয় নাই। কিন্তু এটার একটা ভাল মজুত আছে বলেই আমরা ধারণা করি। সুতরাং এখানে কূপ খননের পরিকল্পনাটা বাস্তবধর্মী এবং এটা করা উচিত।“

টেংরাটিলা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আবিস্কৃত দ্বিতীয় গ্যাসক্ষেত্র ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের অংশ। ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিম দুটি জোনের মধ্যে টেংরাটিলার অবস্থান ছাতক পশ্চিম জোনে। ২০০৩ সালে বাপেক্সের সঙ্গে জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি গঠন করে টেংরাটিলা ক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে ইজারা দেয়া হয়। যদিও ছাতক গ্যাসক্ষেত্রটি সিলেট গ্যাসফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) এর আওতাধীন।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড ও টেংরাটিলায় গ্যাস কূপ খননে প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে পেট্রোবাংলা বাপেক্সকে দিয়ে খনন কাজ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেন, বাপেক্স কূপ খনন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগি করবে।

“আমরা একটা কমিটি করেছি এই দুই কোম্পানির মধ্যে প্রফিট শেয়ারিং কীভাবে হবে তারা প্রপোজ করবে। ওই কমিটি যেভাবে প্রস্তাব দেবে, সেটা আমরা মন্ত্রণালয়কে প্রপোজ করবো।“

টেংরাটিলায় প্রথম পূর্বাংশে গ্যাস কূপ খনন করতে চায় বাপেক্স। এরপর পশ্চিম জোন। যেহেতু দুর্ঘটনায় গ্যাসক্ষেত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে ভিন্ন স্থানে ত্রিমাত্রিক জরিপের মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করে কূপ খনন করতে চায় বাপেক্স।

টেংরাটিলায় গ্যাসের মজুত

টেংরাটিলা ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের একটি অংশ। ছাতক গ্যাসক্ষেত্রটি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের মালিকানাধীন। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তারা জানান, ছাতকের পূর্ব ও পশ্চিম দুটি জোন রয়েছে, যার মধ্যে টেংরাটিলা পশ্চিম জোনে অবস্থিত।

ছাতক পশ্চিম জোন থেকে একটি কূপে অতীতে গ্যাস উত্তোলন হয়েছে। ওই কূপ থেকে মোট ২৭ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ওই গ্যাস ছাতক সিমেন্ট কারখানায় সরবরাহ করা হয়। ১৯৮৪ সালে ছাতক গ্যাসফিল্ড বন্ধ হয়ে যায়।

ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের পূর্ব জোনটি একেবারেই কোনো অনুসন্ধান হয়নি। তবে পশ্চিম জোনে যেহেতু গ্যাস উত্তোলন হয়েছে তাই এটি আবিস্কৃত গ্যাসক্ষেত্র। পশ্চিম জোনে টেংরাটিলায় দশটি স্তরে গ্যাসে সম্ভাবনা ও মজুত থাকার বিষয়টি জরিপে উঠে এসেছে। এখানে অন্তত চারশ বিসিএফ গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনার কথা জানা যায়।

এসজিএফএল এর মহাব্যবস্থাপক জীবন শান্তি সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের হিসেবে পূর্ব– পশ্চিম মিলিয়ে ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে দুই থেকে তিন টিসিএফ গ্যাস রিসোর্স আছে বলে ধারণা রয়েছে।

টেংরাটিলায় মজুত নিয়ে ভূতত্ত্ববিদ ড. বদরুল ইমাম বলেন, উত্তোলনযোগ্য মজুত হতে হলে কূপ খননের পর আবিস্কারের মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে হবে।

“রিসোর্স বলতে বুঝাই যে পুরো অবস্থানটা গ্যাসটা আছে। কিন্তু আমরা রিজার্ভ বলি যেইটাকে উঠায় নিয়ে আসতে পারবো সেইটাকে। তো রিজার্ভ যদি বলা হয়, সেটা দুই টিসিএফ রিসোর্স হতে পারে তবে উত্তোলনযোগ্য সিক্সটি পার্সেন্ট হতে পারে খুব ভালো হলে সেভেনটি পার্সেন্ট হতে পারে। আমি মনে করিনা এখানে দুই টিসিএফ গ্যাস আছে। এখানে (পূর্ব– পশ্চিম মিলিয়ে) নেয়ার এবাউট টিসিএফ থাকতে পারে বলে আমার ধারণা।“

এদিকে যেহেতু টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের পর প্রচুর সম্পদ পুড়ে নষ্ট হয়ছে, তাই সেখানে আসলে কতটা মজুত আছে– সেটি একটি প্রশ্ন। ভূ–কম্পন জরিপ এবং কূপ খননের মাধ্যমেই টেংরাটিলার মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান

বাংলাদেশে পেট্রোবাংলার সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩০টিসিএফ গ্যাসের প্রমাণিত মজুত পাওয়া গেছে যার মধ্যে প্রায় ২৩ টিসিএফ উত্তোলন হয়েছে এবং এখন সাত টিসিএফ এর মতো অবশিস্ট আছে।

পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদেশি কোম্পানি ও আমদানি নির্ভরতাই এখন মোট সরবরাহের চার ভাগের তিনভাগ। এই মুহূর্তে গ্যাসের যে প্রমাণিত মজুত আছে, বিদ্যমান হারে উত্তোলন করলে সেটুকু শেষ হয়ে যাবে দশ বছরের মধ্যে। তবে নতুন আবিস্কারের মাধ্যম প্রতিনিয়ত প্রমাণিত মজুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন, গভীর কূপ খনন ও অনুসন্ধান বাড়িয়ে বাংলাদেশে আবিস্কৃত খনিতেও গ্যাস উৎপাদন ও মজুত বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্র সুরমা ভূগঠনে অবস্থিত। এই গভীরতা আড়াই হাজার মিটারের মধ্যে। তবে সুরমা ভূগঠনের নিচে বরাইল স্ট্রাকচার রয়েছে, সেটিতে গ্যাস উৎপন্ন ও জমে থাকার সম্ভাবনা দেখেন ভূতত্ত্ববিদরা।

ড. বদরুল ইমাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, বরাইল আছে তার উপরে সুরমা, তার উপরে তিপাম– এই ধরনের নামকরণ করে শিলাস্তরগুলোকে ভাগ করা হয়।

“আমাদের দেশে যে সমস্ত গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে, এগুলো বেশিরভাগ সুরমা বেসিনে। তিনটা যে গ্রুপের কথা বললাম এরমধ্যে তিপাম হচ্ছে উপরের লেয়ার। এই স্তরে কোনো গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া যায় নাই। সুরমার মধ্যেই সব গ্যাসক্ষেত্র আছে। কিন্তু তার নিচে যে বরাইল স্তরগুলো, তারমধ্যে গ্যাস সম্ভাবনা অনেক বেশি। তার কারণ গ্যাসগুলো উৎপন্ন হয়েছে এই বরাইল স্তরের ভেতরে।“

বদরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশ একটা বদ্বীপ এলাকা। এটার সঙ্গে যদি আমরা তুলনা করি নাইজেরিয়া, আমেরিকার ইউএস গালফ কোস্ট তুলনা করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে এগুলো গ্যাস রিচ। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ঠিক একই রকম। মি. ইমামের মতে বরাইল গ্রুপ বা ফরমেশনে ড্রিলিং করলে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

“বাংলাদেশ বেসিক্যালি লেস এক্সপ্লোরড। কম অনুসন্ধান হয়েছে– এমন একটা জায়গা। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করছি বা আবিস্কার করেছি সেটা একটা অংশ মাত্র। এখানে যদি যথেষ্ট পরিমাণ অনুসন্ধান করা যায় নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার হবে“।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গভীর কূপ খনন এবং বেশি বেশি কূপ খনন করে গ্যাসের সম্ভাবনা যতটা সম্ভব খতিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূগঠনে গ্যাস ধারণ করতে পারে। সুতরাং এগুলো এক্সপ্লোর করা উচিত। এছাড়া গভীর সাগরেও উল্লেখযোগ্য অনুসন্ধান করতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিতাসে প্রথম গভীর কূপ

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি উৎপাদনে আছে। ৫টি গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য মজুত ফুরিয়ে গেছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী পেট্রোবাংলার তিনটি কোম্পানি ২০২৬–২৭ সালের মধ্যে স্থলভাগে নতুন ২৬টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে।

বরাইল শিলাস্তরে গ্যাসের অনুসন্ধান করতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো একটি গভীর কূপ খনন শুরু হয়েছে। তিতাস–৩১ কূপ নামে এটি মাটির ৫৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত গ্যাস অনুসন্ধান করবে।

বিজিএফসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আব্দুল জলিল প্রামানিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, আমাদের ডিপার জোনগুলো দেখার সুযোগ আছে। এটা যেমন তিতাসে আছে। অন্যান্য জায়গাতেও ভাল সুযোগ আছে। সেখানে গ্যাস এবং কোনো কোনো জায়গায় তেলের সম্ভাবনাও রয়েছে।

“তিতাসের এই কূপ বাংলাদেশের সবচেয়ে গভীরতম কূপ হিসেবে খনন করতে যাচ্ছি আমরা। এই কূপটার ৫ হাজার ৬শ মিটার গভীরে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের তিতাসের যে ২৭টি কূপ খনন হয়েছে সেটা কিন্তু তিন হাজার সাতশ মিটারের মধ্যে। এখান থেকেই আমরা গ্যাস উত্তোলন করছি। ৫,৬০০ মিটার পর্যন্ত ডেপথের মধ্যে আমাদের চারটি নতুন স্তর বা হাইড্রোকার্বন বেয়ারিং জোন আছে বলে ত্রিমাত্রিক জরিপে রিপোর্টে একটা প্রতিফলন আছে। তার উপর ভিত্তি করেই এই খনন কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। এটা সফল হলে আরো প্রায় দুই টিসিএফ এর মতো গ্যাস রিজার্ভে যোগ হতে পারে।“

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধানে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় সক্ষমতা এবং বিনিয়োগ এবং কারিগরি ঝুঁকি। বিজিএফসিএল এর চলমান তিতাস ও বাখরাবাদে দুটি কূপ খনন করতে ব্যয় হচ্ছে ৫৯৪ কোটি টাকা। আর স্থলভাগে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি বাপেক্সের একটি কূপ খননে খরচ হয় গড়ে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে তিনটি কূপ খনন করে একটিতে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্যতার অনুপাতকে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আকর্ষণীয় হিসেবে দেখেন।

এছাড়া তেল গ্যাসের কূপ খননের পর গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের জন্য গ্যাস না পেলেও সেটাকে অপচয় বা ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না ভূতত্ত্ববিদরা। কারণ ওই খননের তথ্য নতুন কূপ খননে সহায়তা করে এবং ভূগঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যায়।

এছাড়া বর্তমান গ্যাস সংকট ও বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার বিবেচনা থেকে হিসেব করলে কূপ খনন যে গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক সেটি প্রতীয়মান হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

উদাহরণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এক কারগো এলএনজি আমদানি করতে সর্বোচ্চ যে খরচ করতে হয়েছে, সেই টাকায় স্থলভাগে আটটি কূপ খনন করতে পারে বাপেক্স।

কারিগরি সক্ষমতার চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যেমন এই মুহূর্তে বাপেক্সের ৫টি রিগ বা খননযন্ত্র থাকলেও একসঙ্গে তিনটির বেশি রিগ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই। সুতরাং অর্থ বরাদ্দ করলেও বাপেক্স একসঙ্গে ৫টি রিগ ব্যবহার করে গ্যাস কূপ খনন করতে পারবে না।

এছাড়া বাংলাদেশে গভীর কূপ খনন করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা, সেখানেও অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতার ঘাটতি আছে বাপেক্সের। কারণ বাপেক্স নিজস্ব রিগ দিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৯৭৭ মিটার পর্যন্ত গভীরে কূপ খনন করেছে।

এই মুহূর্তে গভীর কূপ খনন করার জন্য বাপেক্সের একদিকে কারিগরি সক্ষমতা নেই। আবার বাস্তব অভিজ্ঞতাও নেই। এ কারণে বাপেক্সকে নতুন করে গভীর কূপ খনন করার রিগের আধুনিকায়ন দরকার হবে আবার জনবলকে গভীর কূপ খননে দক্ষ ও অভীজ্ঞ করতে প্রশিক্ষণ লাগবে।

এক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির সহায়তা নেয়া লাগতে পারে বলে মনে করেন ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম।

“এই খানে ডিপ ড্রিলিং করতে হবে। ডিপ ড্রিলিং করার জন্য যে সরঞ্জাম, সেটা একটু ইকুইপমেন্ট ইনটেনসিভ এবং অর্গানাইজেশন ইনটেনসিভ। বাপেক্স যে লেভেলে ড্রিলিং (খনন) করে সেটা ডিপ ড্রিলিং নয়। ডিপ ড্রিলিংয়ে যেতে হলে খুব সম্ভবত বাপেক্সকে বিদেশি কোম্পানির সহায়তা নিয়ে করতে হবে। ইভেনচুয়্যালি বাপেক্সও এটায় পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে।“

সমালোচনা রয়েছে বাংলাদেশে জাতীয় তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা গড়ে না ওঠায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রয়োজন হয়। তেল গ্যাস খাতের চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বাংলাদেশে।

টেংরাটিলায় নাইকোর সঙ্গে চুক্তি নিয়েও অভিযোগ ছিল এবং সাবেক দুইজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের রায়ে পৃথকভাবে দুজনই অব্যাহতি পেয়েছেন।

যদিও সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে ২০০৫ সালে তৎকালীন জ্বালানি মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। অন্যদিকে কানাডার একটি আদালত ২০১১ সালে নাইকোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় অসাধু পন্থা অবলম্বনের দায়ে ৯.৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে রায় দেয়।

 

Previous Post

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেভাবে জড়ালেন সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলের বাসিন্দারা

Next Post

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি’র প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি

Next Post

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি’র প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

RECOMMENDED NEWS

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৮ মে
ঈদুল আযহার চাঁদ দেখা গেছে। ২৮ মে ঈদ। দেশ সংযোগ

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৮ মে

3 মাস ago
খুলনায় পবিত্র আশুরায় তাজিয়া মিছিল
খুলনা মহানগরীতে তাজিয়া মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। -- দেশ সংযোগ

খুলনায় পবিত্র আশুরায় তাজিয়া মিছিল

2 মাস ago

খুলনায় তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

5 মাস ago
আমরা মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী

আমরা মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী

3 সপ্তাহ ago

FOLLOW US

BROWSE BY CATEGORIES

  • অর্থনীতি
  • অশ্রেণীভুক্ত
  • আন্তর্জাতিক
  • আলোচিত
  • খেলার খবর
  • জাতীয়
  • মতামত
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • রাজনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন

বিষয়ভিত্তিক ব্রাউজ করুন

অর্থ আত্মসাত সংবাদ আইএসপিআর সংবাদ আইন আদালত আইন শৃংখলা আইন শৃংখলা সংবাদ আইন শৃংখলাা সংবাদ আন্তর্জাতিক সংবাদ ঈদুল আযহার সংবাদ ঈদের সংবাদ উন্নয়ন সংবাদ এনজিও সংবাদ কৃষি সংবাদ কেডিএ সংবাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ খূলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ খেলার সংবাদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মসূচি গ্রহণ জীব বৈচিত্র সংবাদ পরিবেশ পরিবেশ ও অর্থনীতি সংবাদ পরিবেশ দিবসের সংবাদ পরিবেশ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন সংবাদ ফিচার ফিচার লেখা বইপড়া কর্মসূচি বিজ্ঞান মেলা বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ বৃক্ষরোপন ব্যবসা বাণিজ্য সংবাদ ভূমি সেবা মেলা সংবাদ রাজনীতি রাজনীতির সংবাদ শিক্ষাঙ্গণ শিল্প ও অর্থনীতি শোক সংবাদ সাংবাদিক ইউনিয়নের সংবাদ সিটি কর্পোরেশন সংবাদ সিটি প্রশাসক সংবাদ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংবাদ স্বাস্থ্য চিকিৎসা সংবাদ সড়ক দুর্ঘটনা সংবাদ
দৈনিক দেশ সংযোগ

দেশ ও জনগণের কথা বলে

আমাদের সাথে থাকুন:

সর্বশেষ সংবাদ

  • জলাবদ্ধতা নিরসনে খুদে খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক
  • আমরা মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী
  • খুলনায় ৩,৯৫৮ পিস ইয়াবাসহ চারজন গ্রেপ্তার

বিভাগসমূহ

  • অর্থনীতি
  • অশ্রেণীভুক্ত
  • আন্তর্জাতিক
  • আলোচিত
  • খেলার খবর
  • জাতীয়
  • মতামত
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • রাজনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসনে খুদে খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক
শনিবার জলাবদ্ধতা নিরসনে খুদে খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। -- দেশ সংযোগ

জলাবদ্ধতা নিরসনে খুদে খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক

আগস্ট 8, 2026
আমরা মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী

আমরা মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী

আগস্ট 8, 2026
  • আমাদের পরিবার
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি/ Privacy policy

© ২০২৬ দৈনিক দেশ সংযোগ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

ফটোকার্ড তৈরি করুন

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • Home
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • অর্থনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন
  • জাতীয়
  • খেলার খবর
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • মতামত
  • Login

© ২০২৬ দৈনিক দেশ সংযোগ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।