০৯ মে ’২৬ খ্রি. শনিবার
দেশ ডেস্ক :
গত ৪ মে রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষিত হয়েছে। ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুক্রবার শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ–সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রিসভায় পাঁচ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দু’জন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিন জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যেমন আদিবাসী মুখ রয়েছেন, তেমন মতুয়া, রাজবংশী এলাকার বিধায়কও আছেন। শুভেন্দুর পাঁচ মন্ত্রী হলেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শনিবার শুভেন্দুর পর শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। তার পর অগ্নিমিত্রা পাল, মতুয়া বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া, আদিবাসী বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু এবং শেষে রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত নিশীথ প্রামাণিক।
ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী হয়েছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা। বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী হয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু এবং কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে জয়ী হয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় রয়েছেন এই পাঁচ জন। তবে কে কোন দফতর পাবেন, তা ঘোষণা হয়নি।
দিলীপ ঘোষ
২০১৬ সালে খড়গপুর সদর আসন থেকে জিতে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন দিলীপ। ১০ বছর পর আবার সেই খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে দিলীপকে মেদিনীপুর আসন থেকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের মানস ভুঁইয়াকে ৯০ হাজারের কাছাকাছি ভোটে হারিয়ে শুরু হয় তাঁর সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আসন বদলায় দিলীপের। চেনাজানা মাঠ থেকে সরিয়ে তাঁকে পাঠানো হয় বর্ধমান–দুর্গাপুর কেন্দ্রে। কিন্তু হেরে যান।
অগ্নিমিত্রা পাল
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন অগ্নিমিত্রা। তার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই দলের মহিলা মোর্চার সভাপতি পদের দায়িত্বভার পান। ২০২১ সালে আসানসোল (দক্ষিণ) বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হন। তৃণমূলের সায়নী ঘোষকে হারিয়ে বিধায়ক হন। তার পর এ বারও ওই আসনে তাঁকে টিকিট দিয়েছিল দল। দ্বিতীয় বারও জিতেছেন।
অশোক কীর্তনিয়া
অশোক কীর্তনিয়া বনগাঁ উত্তর আসন থেকে ২০২১ সালেও জিতেছিলেন। এ বারেও প্রার্থী বাছাইয়ে ওই আসনে কীর্তনিয়ার উপরেই আস্থা রেখেছিল দল। দলের বিশ্বাস, ভরসা রেখেছেন তিনি। স্থান পেয়েছেন শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায়।
ক্ষুদিরাম টুডু
পেশায় শিক্ষক ক্ষুদিরাম টুডু এর আগেও দু’বার রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে ভোট লড়েছিলেন। আদিবাসী মুখ হিসাবে তাঁকে বেছে নিয়েছিল দল। এ বারও ক্ষুদিরামকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। জয়ী হয়েছেন। স্থান পেলেন শুভেন্দুর মন্ত্রিসভাতেও।
নিশীথ প্রামাণিক
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার থেকে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। পরে হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডেপুটি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই কোচবিহার আসনেই হেরে গিয়েছিলেন নিশীথ। এ বার কোচবিহারের মাথাভাঙা বিধানসভা আসনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। রাজবংশী অঙ্ককে মাথায় রেখে তাঁকে প্রার্থী করেছিল দল।
প্রসঙ্গত, ২০২৬–এর নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ২০৭টি আসন পেয়েছে পদ্মশিবির। বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সেই প্রশ্নই বার বার ধেয়ে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিভিন্ন সময়ে বার বার বলেছেন, কোনও বাঙালি এবং বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হবে।
বিজেপি ক্ষমতায় এলে যে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা এবং জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে যখন গেরুয়া ঝড় উঠল, তখন সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে সেই জল্পনাকে সত্যি করেই শুক্রবার শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। দলের সকলের প্রস্তাবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ পশ্চিমবঙ্গে এ বার দু’দফায় ভোট হয়েছিল। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হয় ৪ মে।









