১৩ মে ’২৬ খ্রি. বুধবার
কাজী শামিম আহমেদ
খুলনায় জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রিয় কমিটি। মহানগর কমিটিতে তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক ; আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর কমিটি এবং জেলা কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহবায়ক ; আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
কমিটি গঠনের পরদিনই খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এনিয়ে খুলনায় ছাত্রদলে অসন্তোষ শুরু হয়েছে।
বুধবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একইসাথে উক্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে এই দুটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
তাজিম বিশ্বাসকে আহবায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা মহানগর আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
এছাড়া ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা যায়, বুধবার দুপুরে আবু জাফর খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রত্যাখ্যান ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিতে অনুসারীদের নিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন।
প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আগে আবু জাফরের সমর্থকেরা সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক মামলার বদলে পাঁচটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি মাদক সেবন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব খান ইসমাইল হোসেনকে ২০২০ সালে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জলমা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সদস্য বলেও দাবি করেন তারা। তবে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগমুহূর্তেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে আবু জাফর নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, ‘১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলাম। এই মুহূর্ত থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পদ থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম। পরে আবু জাফর সংবাদ সম্মেলন না করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যান। তার সমর্থকেরা এ সময় মিষ্টি বিতরণ করেন।
এর আগে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর আবদুল মান্নানকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফাকে সাধারণ সম্পাদক করে খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ১০ জুন ৩১ সদস্যের ওই কমিটি ২৫১ সদস্যে সম্প্রসারণ করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় সংসদ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
১২ ঘণ্টার মধ্যে আহবায়ককে অব্যাহতি
এদিকে, খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে মাদক নিয়ে কথা বলতে, ছুরি হাতে কাউকে হত্যার হুমকি দিতে এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কমিটি ঘোষণার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৩০ সদস্যের খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ফিরোজ আহমেদের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে আম খেতে খেতে মাদক নিয়ে কথা বলতে, ছুরি হাতে কাউকে হত্যার হুমকি দিতে ও গালাগাল করতে দেখা যায়।
ভিডিও প্রসঙ্গে ফিরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি মাটির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করি। লেখালেখি করি, আবৃত্তি করি। পথশিশুদের নাচ-গান শেখাই, খেতে দিই। মজার ছলে মানুষের সঙ্গে মিশে কখনো মাছ বিক্রি করি, কখনো পান বা কাপড় বিক্রি করি।
এ রকম অনেক ভিডিও আমার ফেসবুকে আছে। এটিও তেমন একটি ফানি ভিডিও। এক ছোট ভাই মজার ছলে এটি করেছিল। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ডোপ টেস্ট করাতে রাজি। আমার শরীরে জীবনে একটা সিগারেটের ধোঁয়াও যায়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরোজ আহমেদসহ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ সোনাডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।









