প্রকাশ : ০২ জুন ’২৬ খ্রি. মঙ্গলবার
দেশ প্রতিবেদক :
খুলনায় আবারো খুন। সন্ত্রাসীরা যেন বল্গাহীন ভাবে পাখির মত একেরপর এক হত্যা করেই যাচ্ছে। হত্যা করে অত্যন্ত নিরাপদে নির্বিঘ্নে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ভয়ে তটস্থ সাধারণ মানুষ। কেউ প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার সাহস পাচ্ছে না। যে কারণেই নগরীতে পুনরায় রাশেদ নামে এক রাজমিস্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বন্ধু ইমরান। পরকিয়া প্রেমের বলি হলো রাশেদ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পরকিয়া প্রেমের কারণে কৃষ্ণনগর স্কুল ভিটার মোড়ে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

ক্যাপশন : খুলনা মহানগরীর শহরতলী সাচিবুনিয়ায় পরকিয়ার কারণে নিহত রাশেদ- দেশ সংযোগ
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, লবনচরা থানা কৃষ্ণনগর এলাকার কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে কাজী রাশেদ। ইমরান এবং রাশেদ ঘনিষ্ট দুই বন্ধু। উভয়ের সাথে পারিবারিক ভাবে ঘনিষ্ট উঠাবসা এবং আসা যাওয়া। সেই সুবাদে ইমরানের স্ত্রীর সাথে রাশেদের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারই ধারাবাহিকতায় রাশেদ ইমরানের স্ত্রীকে গোপনে নিয়ে বিয়ে করে এবং রীতিমত সংসার করছে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়। এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকে গত ৭/৮ দিন আগে রাশেদকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইমরান দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এ সময়ে এলোমেলো ভাবে ৮/১০ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়। ব্যর্থ হওয়ার পরেও থেমে নেই ইমরান। স্ত্রীকে বাগিয়ে নেয়ার প্রতিহিংসায় মঙ্গলবার দুপুরে অপর এক বন্ধুর মাধ্যমে ইমরান রাশেদকে বাড়ির বাইরে ডেকে আনে। এ সময়ে ইমরান ৫/৬ টি মোটরসাইকেল যোগে ১০/১২ জনকে সাথে নিয়ে রাশেদকে ধরে সাচিবুনিয়া বাজারে আনে। সেখানে প্রকাশ্যে রাশেদের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ সময়ে রাশেদের বুকের বাম পাশে ধারালো ছোরা ঢুকিয়ে দেয় এবং বাম পায়ে উপযুপোরি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত রাশেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রাশেদের অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে থাকে। সাথে সাথে এলাকার লোকজন ছুটে এসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সুরতহাল তৈরী শেষে ময়না তদন্তের জন্য রাশেদের মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
লবণচরা থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার লবণচড়া থানার কৃষ্ণনগর এলাকায় বাড়ির পাশের একটি দোকানের সামনে থেকে ৫/৬টি মোটরসাইকেল যোগে রাশেদকে তুলে নিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে সাচিবুনিয়া এলাকায় নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। রাশেদের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । এর আগেও রাশেদকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকান্ডটি ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।









