প্রকাশ : ১২ জুন ’২৬ খ্রি. শুক্রবার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার পথ সুগম করবে।
এই বিষয়ে অবগত একজন কূটনীতিক মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’কে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক বলেন, উভয় পক্ষ সমঝোতা স্মারকের খসড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। কিন্তু এতে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন বাকি আছে।
কূটনীতিকের মতে, চুক্তিটির কয়েকটি মূল বিষয় হলো-
৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি: চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: ইরান কোনো ধরনের পারাপার ফি বা শুল্ক আদায় ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে। এটি জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে।
নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া: চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিন পর এই জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে।
অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং ‘চুক্তির অগ্রগতি ও সদিচ্ছার সাথে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করে’ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। যদিও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এতে উল্লেখ করা হয়নি।
পারমাণবিক বিষয়ে মার্কিন শর্ত পূরণ: এই চুক্তিটি ‘পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত শর্ত পূরণ করে’, যার মধ্যে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার এবং উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির নামকরণ: চুক্তিটির নাম দেওয়া হবে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’।
তবে এই চুক্তিতে ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা শত কোটি ডলারের তহবিল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা, তা ওই কূটনীতিক জানাননি।
উল্লেখ্য, তহবিল অবমুক্ত করার বিষয়টি ইরানের একটি অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটি আটকে ছিল বলে জানা যায়।
কূটনীতিক আরও জানান, আলোচনার শেষ দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সাথে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে’ এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।
দ্বিতীয় আরেকজন কূটনীতিক সিএনএন’কে জানিয়েছেন, এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ভেন্যু বা স্থান সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হতে পারে। ফ্রান্সে নয়, যেখানে আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প এবং একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এদিকে, এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছিলেন, চুক্তির এই খবরগুলো ‘কেবলই জল্পনা-কল্পনা’ এবং তার দেশ কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
সূত্র : সিএনএন









