প্রকাশ : ১৯ জুন ’২৬ খ্রি. শুক্রবার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
এ জন্যেই বোধ হয় বলে মানবতা এখনও বেঁচে আছে। তারই এক দৃষ্টান্ত নজির দেখা গেল সৌদি আরবে। নিজের প্রিয় সন্তানের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন এক বাবা। আর নিজের সন্তানের জীবন ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লত মায়ের দিশেহারা অবস্থা। এ আধুনিকতার যুগে এ যেন কোন সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা দেখে কেঁদেছে পুরো বিশ্ব । সন্তানের মৃত্যুর সীমাহীন শোক বুকে চেপেও ঘাতককে নি:শর্ত ক্ষমা করে দিয়ে আলোচনায় এসেছেন সৌদি নাগরিক শেখ ইয়াহিয়া বিন গাউস আল বসরী।সব চেয়ে অবাক করা বিষয় হলো ফাঁসি কাযকরের মাত্র ১৫ ঘন্টা আগেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। ক্ষমার এই সংবাদ জানাতে তিনি নিজেই ইয়াছিরের মায়ের বাড়িতে যান। এরপর সেখানে জন্ম হয় আবেগঘন এক দৃশ্যের। ছেলের জীবন রক্ষা পাওয়ার খবর শুনেই কৃতজ্ঞতায় আপ্লত মা শেখ ইয়াহিয়ার পায়ে চুমু দিতে চাইলে তিনি তাকে থামিয়ে দেন। বরং মায়ের কপালে চুম্বন করে সান্তনা দেন। এরপর ঘাতকের ভায়েরাও সেখানে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শেখ ইয়াহিয়া তাদেরও বুকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেন। মূলত: সৌদি আরবের আইনানুযায়ী নিহতের পরিবারের সম্মতি পেলে মৃত্যুদন্ড মওকুপের সুযোগ ছিলো। এ সময় ঘাতক ইয়াছিরের পরিবারের পক্ষ থেকে বিপুল অংকের ব্লাড মানি বা রক্তপণ দেয়ার প্রস্তাবও আসে। কিন্তু শেখ ইয়াহিয়া সেই অর্থ নিতে রাজী হননি। তিনি জানান, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তিনি তার সন্তানের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সন্তান হারানোর কষ্ট পৃথিবীর সব চেয়ে বড় যন্ত্রণা গুলোর একটি। কিন্তু সেই কষ্ট বুকে নিয়েই শেখ ইয়াহিয়া ক্ষমা করে দিলেন নিজের ছেলের হত্যাকারীকে। আর তার এই মহানুভবতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, ক্ষমা, মানবতা ও উদারতার এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল।









