প্রকাশ : ১৭ জুলাই ’২৬ খ্রি. শুকবার
সূত্র : একাত্তর টেলিভিশন
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : :
১৯৭১-এর পর আবারও বড় ভাঙনের মুখে জিন্নাহর পাকিস্তান। এবার পাকিস্তান নিয়ন্ত্রীত কাশ্মির স্বাধীন করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আওয়ামী রাজনীতি। আর এতেই মাথায় বাজ পড়েছে শাহবাজ শরীফ প্রশাসনের। পাহাড় জুড়ে বারুদের গন্ধ, রাজপথে রক্ত আর চারদিকে শুধু গুলির বিকট শব্দ। মুহুর্তের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মিরের একাধিক এলাকা। এই ভয়াবহ উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী জয়েন্ট এ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। তাদের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন। নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ এখন বিস্ফোরক সংকটে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পযায়ে পৌছেছে যে, পুরো অঞ্চল জুড়ে বড় ধরণের সহিংসতার আশংকা তৈরী হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- কাশ্মীর কি আরো ভয়াবহ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, নাকি পূর্ব পাকিস্তানের মত স্বাধীনতার পথে হাটছে?

ক্যাপশন : আওয়ামী জয়েন্ট এ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি কমিটির বিক্ষোভের মুখে পাকিস্তান পুলিশ। ছবি-সংগৃহিত, দেশ সংযোগ
আবারও রক্ত ঝরলো পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে। পাহাড় ঘেরা এই ভূখন্ডে রাজনীতির উত্তাপ এখন রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতি সংঘাতে। নির্বাচনের আগেই বিক্ষোভ, সংঘর্ষ আর গুলির শব্দে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবন। এমন এক সংকটময় মুহুর্তে বুধবার রাওয়াকোর্টে বড় ধরণের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী জয়েন্ট এ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি। তবে সে কর্মসূচির আগের দিনেই ভয়াবহ সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৯ জন।

ক্যাপশন : পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিস্ফোরনে কাশ্মীর জ্বলছে। ছবি-সংগৃহিত, দেশ সংযোগ
নতুন করে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ নির্বাচনী ব্যবস্থায় ১২ টি আসন পাকিস্তানের অন্যত্র বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত হচ্ছে এবং তাদের ভোটের প্রকৃত মূল্য ক্ষুন্ন হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই বিক্ষোভই এবার বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে।

ক্যাপশন : পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তান সেনাদের হামলা। ছবি সংগৃহিত, দেশ সংযোগ
পুঞ্জ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খানের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহর আটকে দিয়ে কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্যরা। তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ৬ বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। একই সময়ে রাওয়াকোর্টে পৃথক আরেকটি সংঘর্ষে আরো একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পুরো এলাকায় জারি করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনের বর্তমান কাঠামো কাশ্মীরের জনগণের রাজনৈতিক অধিকারকে দুর্বল করছে। তাদের দাবি- স্থানীয়দের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা যে প্রতিনিধিদের সেই জায়গায় বাইরের শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত আসন অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই দাবিকে সামনে রেখেই ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে জয়েন্ট আওয়ামী কমিটি। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোন ধরণের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসন।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর এখন আবারো রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর এর মূলে কলকাঠি নাড়ছে আওয়ামী কমিটি। ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি নিয়ে বাড়ছে নানা জল্পনা।









