প্রকাশ : ১৭ জুলাই ’২৬ খ্রি. শুকবার
সূত্র : একাত্তর টেলিভিশন
দেশ ডেস্ক : :

আবারও ভেঙ্গে খান খান হতে চলেছে পাকিস্তানের মানচিত্র। ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভাঙ্গনের কাউন্টডাউন।


চারদিকে গুলির শব্দ বিস্ফোরণ, রক্ত আর বিদ্রোহের আগুনে জ¦লছে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান। একেররপর এক হামলায় কেঁপে উঠছে সেনাবাহিনী। আর বিদ্রোহীরা দাবি করছে বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। এমন কি খোদ পাকিস্তানের জেষ্ঠ্য রাজনীতিকরাও বলছেন সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যত: ভেঙ্গে পড়েছে।

তাহলে কি ১৯৭১ সালের পর আবারও বদলে যেতে চলেছে পাকিস্তানের মানচিত্র। নাকি এটি শুধুই বিদ্রোহীদের বড় দাবি, যার জবাব দিতে মরিয়া ইসলামাবাদ। এখন পুরো বিশে^র নজর সেই প্রশ্নের দিকেই। বিদ্রোহীদের দাবি শুনলে চোখ কপালে উঠার মতো। বেলুচ নেতা মিনতিয়া বেলুচ গেলো ১৩ জুলাই এক চিঠিতে দাবি করেছেন, বর্তমানে বেলুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভূখন্ড বিদ্রোহী বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

ইতোমধ্যেই নিজস্ব জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং বেলুচি ফারুচ নামেই বেলুচি মুদ্রাও চালু করে ফেলেছে তারা। স্বর্ণ, তামা ও ১৫০টিরও বেশী গ্যাস ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহীদের হাতে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৫ লাখ বাহিনী নিয়ে পাকিস্তানী সেনাদের পুরোপুরি বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়ে বিশ^ সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি চেয়েছেন এই নেতা। নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ ডেটাবেজের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বেলুচিস্তানী সহিংসতা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ১০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এপর্যন্ত ৪৫৭ জন বেসামরিক নাগরিক, ৭০৬ জন পাকিস্তানী সামরিক ও পুলিশ সদস্য এবং ১ হাজার ১১৪ জন বিদ্রোহী সহ মোট ২ হাজার ২৭৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বছরের শুরুতেই অপারেশন পেরোতে ২২০ জন সেনা হত্যা ও মে মাসে কোয়েটা রেলস্টেশনে আত্মঘাতি বোমায় ৩০ জনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি এখন লাশের পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সাবান নামে যে অভিযান শুরু করেছে তাতে এখন পর্যন্ত ১২৬ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের ধ্বংস অনিবার্য। বেলুচিস্তান হলো পাকিস্তানের মোট ভূখন্ডের ৪৪ শতাংশ। দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস, স্বর্ণ ও তামার মূল লাইফ লাইন এটি। এই প্রদেশ হারানো মানে পাকিস্তানের অর্থনীতি চিরতরে দেওলিয়া হয়ে যাওয়া এবং পারমানবিক অস্ত্রধারী একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া।
সব মিলিয়ে বেলুচিস্তানের এই পরিস্থিতি এখন এক চূড়ান্ত মহাবিপ্লবের রুপ নিয়েছে। একদিকে বিদ্রোহীদের ৮৫ শতাংশ ভূখন্ড নিয়ন্ত্রণের দাবি, অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নির্মম দমননীতি পুরো অঞ্চলটিকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭১ এ বাংলাদেশ সৃষ্টির পর ২০২৬ সালে এসে আরো একবার খন্ডবিখন্ড হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের মানচিত্র।









