প্রকাশ : ৩১ মে ’২৬ খ্রি. রবিবার
দেশ প্রতিবেদক, ফরিদপুর :
ঈদুল আজহার ছুটিতে ফরিদপুরের সড়ক ও মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ঈদের আগের দিন বুধবার থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই তরুণ। অধিকাংশ ঘটনায় মোটরসাইকেল জড়িত থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫)। তিনি বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের উত্তরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
একই দিন বিকেলে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার নারানখালী ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রাজন শেখ (১৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ইব্রাহিম ফকির (১৭)। নিহত দুই কিশোর মধুখালী উপজেলার নওয়াবাড়ী ঘোষকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মামুন জানান, ভাঙ্গা গোলচত্বরে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ছিটকে খাদে পড়ে যায়।
ঈদের আগের দিন বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্বসদরদী এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন সাইফুল মোল্লা (২৩) ও আলী ইমরান শরীফ (২৪)। আহত হন আরও দুজন।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে চার আরোহী সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক সাইফুল ও ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের আউষের হাট এলাকায় নছিমন উল্টে নিহত হন উমর শেখ (২১)। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে ঈদের দিন বিকেলে চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন ময়না খাতুন (৬৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সবশেষ রোববার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার ঝাটুরদিয়া এলাকায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী রাজিব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৩ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিন আক্তার সুইটি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটিতে মহাসড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনায় মোটরসাইকেল জড়িত। দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বোরাক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটি ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে ঝাটুরদিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন। খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানী আজাদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। বাসের ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উদ্ধারকারী সংস্থার তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।









