ঢাকা, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যঘিরে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের কৃষিখাতে। বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেচের জন্য ডিজেল জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। মাঠপর্যায়ের এই চাপ খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মানিকগঞ্জের কৃষকদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে সেচকাজ চালিয়ে নিতে অনেককে অতিরিক্ত খরচ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষকেরা অস্থায়ী পাত্রে ডিজেল ভরে সেচযন্ত্র চালাচ্ছেন, আবার কেউ সময়মতো জ্বালানি না পেয়ে জমিতে পানি তোলার কাজ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
জ্বালানি চাহিদা কমাতে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে এবং বাজার ও শপিং সেন্টার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সংযম আনার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে কৃষিখাতের বাস্তবতা আলাদা। বোরো চাষ মূলত সেচনির্ভর, আর অনেক এলাকায় এই সেচব্যবস্থা এখনো ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেচ ব্যাহত হলে শুধু কৃষকের খরচই বাড়বে না, উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে। এই অবস্থায় কৃষি-সংশ্লিষ্ট মহলে শঙ্কা বাড়ছে যে, জ্বালানি অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে তার প্রভাব খাদ্যবাজারেও পড়তে পারে।
সরকার একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি উৎস ও আমদানি সহায়তার পথও খুঁজছে। ভারত সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাড়তি জ্বালানি ও সার আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে, আর ভারতীয় পক্ষ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের চাপ সামাল দিতে এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বব্যাংকও সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধিকে ধীর করতে পারে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক আঞ্চলিক আপডেটে বলা হয়েছে, জ্বালানি বাজারের ব্যাঘাত এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সংস্কার ও সরবরাহ-নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কৃষিখাতে ডিজেল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া, মাঠপর্যায়ে জ্বালানি বণ্টনে স্বচ্ছতা আনা এবং সেচ মৌসুমে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। কারণ বোরো মৌসুমে বিঘ্নের অর্থ শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও বাড়তি চাপ।









