রবিবার, জুলাই 12, 2026
  • Login
  • যোগাযোগ
দৈনিক দেশ সংযোগ
  • 🏠 হোম
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন
  • মতামত
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • 📰 ই-পেপার
No Result
View All Result
দৈনিক দেশ সংযোগ
📰ই-পেপার
No Result
View All Result
Home আলোচিত

মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় সুস্থ থাকুক মা ও বোন

দেশ সংযোগ by দেশ সংযোগ
মে 13, 2026
in আলোচিত
0
মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় সুস্থ থাকুক মা ও বোন
0
SHARES
1
VIEWS

মোঃ রমজান আলী

নারীর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা একটি স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার, শিক্ষা ও উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আবরণ বা এন্ডোমেট্রিয়াম হরমোনের প্রভাবে রক্ত ও কোষ হিসেবে শরীর থেকে বেরিয়ে আসলে, তাকেই মাসিক বা পিরিয়ড বলা হয়। সাধারণত নয় থেকে ১২ বছর বয়সে একটি মেয়ের প্রথম মাসিক শুরু হয়, যা তার মাতৃত্বের সক্ষমতার প্রাথমিক লক্ষণ। এ সময়ে শরীরে নানা হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে পেটে ব্যথা, মেজাজের পরিবর্তন বা ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় নারীর মাসিক বা ঋতুচক্র এখনো অনেকাংশেই একটি নীরব ও লজ্জার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ এটি নারীর স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য নারীর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (Menstrual Hygiene Management) (এমএইচএম) নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও সামাজিক ট্যাবু। তাই নারীর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতিতে প্রয়োজন সচেতনতা। যা নারী-পুরুষ সবার মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

 

বাংলাদেশে কিশোরী ও নারীদের পরিছন্ন পরিবেশের অভাব এবং স্বাস্থ্যকর মাসিকের উপকরণের অপ্রতুলতার ফলে, নীরবে কষ্ট ভোগ করে ও অনিরাপদ, অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পরিবেশে মাসিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে থাকে। ঋতুস্রাব যৌন পরিপক্কতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত এবং মাসিক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে গবেষণায় দেখা যায় যে, বিবাহিত বা অবিবাহিত কিশোরীরা এ ধারণাগুলো স্পষ্টভাবে বোঝে না। ঋতুস্রাব এবং এর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পূর্ব-জ্ঞান না থাকার কারণে মেয়েদের কাছে প্রথম ঋতুস্রাব ভীতিকর এবং বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য ও সুস্থতা জরিপ ২০১৯-২০ অনুসারে অবিবাহিত বয়ঃপ্রাপ্ত কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ এবং বিবাহিত বয়ঃপ্রাপ্ত কিশোরীদের প্রতি চারজনের একজন তাদের প্রথম মাসিকের পূর্বে মাসিক বিষয়ে জানতো বা সচেতন ছিল। জাতীয় স্বাস্থ্যবিধি জরিপ ২০১৮ অনুসারে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের ৩৬ শতাংশ তাদের মাসিকের পূর্বে মাসিক বা ঋতুস্রাব সম্পর্কে শুনেছেন, অন্যদিকে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীদের ৩০ শতাংশ এ বিষয়ে জ্ঞান রাখে। বিবাহিত ও অবিবাহিত মহিলা (৬৫ ও ৮০ শতাংশ) উভয়ের মাসিক সম্পর্কে জানার অন্যতম উৎস ছিল পাঠ্যপুস্তক এবং অন্যান্য বই। তাছাড়া কিশোরী এবং অবিবাহিত কিংবা বিবাহিত মহিলাদের জন্য অন্যতম সাধারণ তথ্যের উৎস ছিল যথাক্রমে টিভি বা রেডিও (২৩ থেকে ২৯ শতাংশ) এবং ইন্টারনেট (১১ থেকে ১৪ শতাংশ)। এ ফলাফলগুলো নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশের কিশোরী ও যুবতীদের জন্য উন্নত মাসিক শিক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত জরুরি। ৫০ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি মেয়ে তাদের মাসিকের রক্তশোষণ ব্যবস্থাপনার জন্য পুরনো কাপড় ব্যবহার করে থাকে, যার ফলে জ্বালা-যন্ত্রণা এবং সংক্রমণজনিত রোগ হতে পারে এবং মাত্র ১২ শতাংশ কিশোরী তাদের ব্যবহৃত কাপড় পরিষ্কার করার পদ্ধতি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রদত্ত পরামর্শ অনুসরণ করে থাকে।

 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট নানাবিধ ক্ষতিতে হুমকির মুখে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য
প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট নানাবিধ ক্ষতিতে হুমকির মুখে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। --দেশ সংযোগ

প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট নানাবিধ ক্ষতিতে হুমকির মুখে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য

জুন 6, 2026
প্রাকৃতিকভাবে ‘সানশাইন ভিটামিন’-এর ঘাটতি পূরণ

প্রাকৃতিকভাবে ‘সানশাইন ভিটামিন’-এর ঘাটতি পূরণ

মে 23, 2026

মাসিক এবং মাসিক ব্যবস্থাপনা প্রায়শই ভ্রান্তধারণা, ট্যাবু সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতিনীতি এবং সামাজিক বিধিনিষেধের সাথে সম্পর্কিত। বয়ঃপ্রাপ্ত কিশোরীদের প্রায়ই বলা হয় যে, মাসিক খুবই ব্যক্তিগত বা গোপণীয় এবং একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা সকল মেয়ে ও মহিলাদের ভোগ করতে হবে, তাই এটি নিয়ে আলোচনা করা বা শেখার কিছু নেই। নারীরা তাদের মাসিকের সময় স্কুলে যেতে পারলেও এসময় তারা কোনো ধরনের খেলাধুলা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারে না। পুনঃব্যবহারযোগ্য প্যাড ব্যবহার করা, কাপড় পরিষ্কার না করা বা বাতাসে শুকানো, অস্বাস্থ্যকর শোষক ব্যবহার, সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা বা সঠিক পরিচ্ছন্নতার অভাবে মূত্রনালির সংক্রমণে অস্বাভাবিক যোনিস্রাব, প্রস্রাব করার সময় চুলকানি বা প্রজনন অঙ্গ সংক্রমণ হয়ে থাকে। ‘জাতীয় স্বাস্থ্যবিধি জরিপ ২০১৮’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বেশিরভাগ কিশোরী (৫০ শতাংশ) এবং নারীরা (৬৪ শতাংশ) মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার জন্য পুরানো কাপড় ব্যবহার করে থাকে। মহিলাদের (২৯ শতাংশ) তুলনায় কিশোরীদের (৪৩ শতাংশ) মধ্যে অপসারণযোগ্য প্যাড ব্যবহারের হার বেশি। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি অবিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে শহরে ৭২ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় ৬৬ শতাংশ কিশোরী স্যানিটারি প্যাড অথবা অন্যকোনো স্বাস্থ্যসম্মত অপসারণযোগ্য মাসিকের পণ্যসামগ্রী ব্যবহার করে। মাত্র নয় দশমিক চার শতাংশ বিবাহিত মহিলা এবং ১১ দশমিক নয় শতাংশ অবিবাহিত মহিলারা আন্তর্জাতিক সুপারিশ ও পরামর্শ অনুযায়ী দিনে অন্তত চারবার স্যানিটারি সামগ্রী বা অপসারণযোগ্য মাসিক সামগ্রী পরিবর্তন করে শহরে মাত্র ১৪ শতাংশ মেয়েরা এই স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১১ শতাংশ । আর বেশিরভাগ কিশোরী এবং মহিলারা লুকানো স্থানে এমএইচএম কাপড় শুকাতে দেয় (৫৫ থেকে ৬৭ শতাংশ)।

 

মাসিকের সময় রক্ত শোষণের জন্য পরিষ্কার স্যানিটারি ন্যাপকিন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ বা পরিষ্কার ও শুকনো সুতি কাপড় ব্যবহার করা উচিত। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর পরিবর্তন করতে হবে। যারা কাপড় ব্যবহার করে, তাদের অবশ্যই কাপড়টি সাবান ও গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে। রোদের অতিবেগুনি রশ্মি কাপড়ের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এ দিনগুলোতে নিয়মিত গোসল করা এবং শরীর পরিষ্কার রাখা জরুরি। তবে যোনিপথে কসমেটিক বা সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। ব্যবহৃত ন্যাপকিন বা কাপড় খোলা জায়গায় বা টয়লেটে না ফেলে কাগজে মুড়িয়ে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলা উচিত। মাসিকের সময় শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল, ডিম ও প্রচুর পানি পান করা উচিত। তলপেটে ব্যথার জন্য গরম পানির সেঁক নেওয়া বা হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। এ সময় মেজাজের ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে বাবা, ভাই বা স্বামীদের সহানুভূতিশীল আচরণ নারীদের মানসিক প্রশান্তি দেয়। অপরিচ্ছন্ন মাসিক ব্যবস্থাপনার কারণে নারীদের প্রজনন ও মূত্রনালির সংক্রমণ, জরায়ুর ক্যান্সার এবং ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্বের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসিকের সময় সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না মানলে হেপাটাইটিস বি-এর মতো সংক্রমণও ছড়াতে পারে। মাসিক নিয়ে লজ্জা দূর করতে হবে সবার আগে। স্কুল-কলেজগুলোতে মাসিকবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করা এবং পিরিয়ড নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা সময়ের দাবি। প্রতিটি ঘরে মায়েদের দায়িত্ব হবে তাদের কিশোরী মেয়েদের এ বিষয়ে আগেভাগেই সঠিক ধারণা দেওয়া, যাতে প্রথম মাসিকের সময় তারা ভয় না পায়।

 

বাংলাদেশ সরকার মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার (এমএইচএম) প্রতিকূলতাসমূহ মোকাবিলার জন্য একটি ব্যাপক সুবিন্যস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের সাথে এমএইচএম শিক্ষাকে একীভূত করা, নিবেদিত মহিলা শিক্ষকবৃন্দ দ্বারা মেয়েদের সঠিক এমএইচএম চর্চা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত এমএইচএম কর্মকাণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশবান্ধব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুপাত বৃদ্ধি, যেখানে বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক নির্দিষ্ট ওয়াশ ব্লক (প্রতিবন্ধীবান্ধব, শিক্ষক এবং মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক টয়লেট এবং পানির ব্যবস্থা) এবং মাসিক ব্যবস্থাপনা সুবিধা, খেলার মাঠ এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোও তাদের কার্যক্রমসমূহ স্কুলে সচেতনতা তৈরি থেকে শুরু করে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির প্রশিক্ষণ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। এছাড়াও স্কুল, ওয়ার্ড এবং এলাকায় শিশু ও কিশোর ক্লাব প্রতিষ্ঠা করছে। এই কিশোর ক্লাব ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এসআরএইচআর প্রতিরোধের জন্য একটি শিষ্টাচারবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি)-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম কমানোর প্রয়াসে অপ্রক্রিয়াজাত স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং ডায়াপারের কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য সম্পূরক শুল্ক ছাড় দেওয়া। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সম্পৃক্ততায় স্কুল ও মাদ্রাসায় স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং স্বাস্থ্য সহকারীর নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ, উপকরণ প্রদান ও মাসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা সভা পরিচালনার মাধ্যামে এমএইচএম শিক্ষাকে শক্তিশালী করা হয়ে থাকে। এছাড়াও স্কুল হেলথ ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসাররা প্রাথমিক চিকিৎসা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, পুষ্টি প্রচার এবং জেলা হাসপাতালে সুপারিশ ইত্যাদি পরিসেবা প্রদান করে থাকে। সরকার স্বাস্থ্য বাতায়নের (১৬২৬৩) মাধ্যমে কিশোর কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও মাসিক সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করছে।

 

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলসহ অনেক শহরাঞ্চলেও এখনো মাসিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না। অনেক পরিবারে কিশোরীরা প্রথম মাসিক হওয়ার পরও সঠিক দিকনির্দেশনা পায় না। এছাড়া, মাসিক চলাকালে স্কুলে না যাওয়া ও ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলি নারীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ প্রেক্ষাপটে সচেতনতা তৈরি না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে মাসিক বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি। মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বিষয়ে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও সমানভাবে জানাতে হবে। কারণ পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। একজন বাবা, ভাই বা স্বামী যদি মাসিক সম্পর্কে সচেতন হন, তবে তিনি নারীর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন। সচেতনতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন বা উপকরণের ব্যবহার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মাসিক সংক্রান্ত ভুল ধারণা দূর করা, স্কুলগামী মেয়েদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং নারীর আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা বৃদ্ধির মত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা সম্ভব। নারীর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে মা-বাবাকে সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে, যাতে মেয়েরা প্রথম থেকেই সঠিক ধারণা পায়। পুরুষদের সম্পৃক্ত করতে স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের জন্যও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন বাড়িয়ে সুলভ মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা যেতে পারে। টেলিভিশন, রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত গণমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণা চালাতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে সঠিক বার্তা পৌঁছালে কুসংস্কার দূর করা সহজ হবে।

একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন সেদেশের নারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সচেতন ও আত্মমর্যাদাবান থাকে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সচেতনতা হলো সেই শক্তিশালী হাতিয়ার, যা সব বাধা দূর করে সমাজে নারীর জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নারীর সুস্থতাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি। সমাজের প্রত্যেকে মানতে হবে নারীর জীবনে মাসিক কোনো অভিশাপ বা অপবিত্রতা নয়, এটা তাদের জীবনেরই স্বাভাবিক প্রবাহ। আমাদের মা ও বোন অর্থাৎ দেশের অর্ধেক নাগরিকদের ভাল রাখা মানেই একটি সুস্থ সুন্দর জাতি গড়ে তোলা। আসুন, নারীর মাসিক নিয়ে লুকোছাপা বন্ধ করি, কুসংস্কার ভেঙে সচেতন হই। সঠিক তথ্য আর সহমর্মিতাই পারে মায়েদের মাসিককালীন দিনগুলোকে সহজ ও নিরাপদ করতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী ও পুরুষ বান্ধব এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠুক।

 

Tags: ফিচার লেখা
Previous Post

আলোচনা সভায় বক্তারা–আইয়ুব হোসেন ছিলেন একজন সৎ, সাহসী ও আদর্শিক সাংবাদিক

Next Post

খুবিতে ইএমবিএ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

Next Post
খুবিতে ইএমবিএ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

খুবিতে ইএমবিএ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

RECOMMENDED NEWS

‘পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন’, দলের কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারী

2 মাস ago
ফাঁসির ১৫ ঘন্টা আগে সন্তানের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন পিতা
সৌদি আরবে নিহতের পিতা শেখ ইয়াহিয়া বিন গাউস আল বসরীর পায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পায়ে চুম্বন করছেন হত্যাকারীর মা ও ভায়েরা। ছবি সংগৃহিত-- দেশ সংযোগ

ফাঁসির ১৫ ঘন্টা আগে সন্তানের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন পিতা

3 সপ্তাহ ago
কলারোয়ায় কৃষিতে স্বাবলম্বী সাত্তার : বেকারদের অনুকরণীয়
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কৃষিতে সাবলম্বী কৃষক আব্দুস সাত্তার। তিনি এখন বেকার ও খেটে খাওয়া কৃষকদের অনুকরণীয় হয়ে কৃষককুলের হয়ে কাজ করছেন। দেশ সংযোগ

কলারোয়ায় কৃষিতে স্বাবলম্বী সাত্তার : বেকারদের অনুকরণীয়

2 মাস ago
ফুলতলায় নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে পটগান অনুষ্ঠিত

ফুলতলায় নিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে পটগান অনুষ্ঠিত

2 মাস ago

FOLLOW US

BROWSE BY CATEGORIES

  • অর্থনীতি
  • অশ্রেণীভুক্ত
  • আন্তর্জাতিক
  • আলোচিত
  • খেলার খবর
  • জাতীয়
  • মতামত
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • রাজনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন

বিষয়ভিত্তিক ব্রাউজ করুন

অর্থ আত্মসাত সংবাদ আইএসপিআর সংবাদ আইন আদালত আইন শৃংখলা আইন শৃংখলা সংবাদ আইন শৃংখলাা সংবাদ আগুন সংবাদ আন্তর্জাতিক সংবাদ ঈদুল আযহার সংবাদ ঈদের সংবাদ উন্নয়ন সংবাদ এনজিও সংবাদ কারাবন্দিদের হস্তান্তর কৃষি ও অর্থনীতি কৃষি সংবাদ ক্রীড়াঙ্গন জঙ্গী সংগঠনের সংবাদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মসূচি গ্রহণ জীব বৈচিত্র সংবাদ নারী ফুটবল দলের সংবাদ পরিবেশ পরিবেশ দিবসের সংবাদ পরিবেশ সংবাদ ফিচার ফিচার লেখা বিজ্ঞান মেলা বিদেশী দূত বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ বৃক্ষরোপন ব্যবসা বাণিজ্য সংবাদ ভূমি সেবা মেলা সংবাদ রাজনীতি রাজনীতির সংবাদ শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বাষিকীর সংবাদ শিক্ষাঙ্গণ শোক সংবাদ শোক দিবস সংবাদ সাংবাদিক ইউনিয়নের সংবাদ সিটি প্রশাসক সংবাদ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংবাদ স্বাস্থ্য চিকিৎসা সংবাদ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংবাদ সড়ক দুর্ঘটনা সংবাদ
দৈনিক দেশ সংযোগ

দেশ ও জনগণের কথা বলে

আমাদের সাথে থাকুন:

সর্বশেষ সংবাদ

  • নগর ভবনে কেসিসি’র জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র প্রশাসক
  • পরিকল্পিত ও টেকসই খুলনা বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি হল জনগণের অংশীদারিত্ব
  • ফুলতলায় প্রাইমারী স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ৪০  শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা

বিভাগসমূহ

  • অর্থনীতি
  • অশ্রেণীভুক্ত
  • আন্তর্জাতিক
  • আলোচিত
  • খেলার খবর
  • জাতীয়
  • মতামত
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • রাজনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

নগর ভবনে কেসিসি’র জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র প্রশাসক
নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরশনে সিটি কর্পোরেশনের জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। -- দেশ সংযোগ

নগর ভবনে কেসিসি’র জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র প্রশাসক

জুলাই 12, 2026
পরিকল্পিত ও টেকসই খুলনা বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি হল জনগণের অংশীদারিত্ব
 শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে “আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের ভাবনা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। -- দেশ সংযোগ

পরিকল্পিত ও টেকসই খুলনা বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি হল জনগণের অংশীদারিত্ব

জুলাই 12, 2026
  • আমাদের পরিবার
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি/ Privacy policy

© ২০২৬ দৈনিক দেশ সংযোগ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

ফটোকার্ড তৈরি করুন

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • Home
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • অর্থনীতি
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন
  • জাতীয়
  • খেলার খবর
  • মহানগর জেলা ও উপজেলা
  • মতামত
  • Login

© ২০২৬ দৈনিক দেশ সংযোগ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।