প্রকাশ : ০৭ জুলাই ’২৬ খ্রি. বুধবার
দেশ প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা : :
সাতক্ষীরার উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে মেঘা প্রকল্পের নবনির্মিত বেড়িবাঁধ বাধ কেটে মৎস্যঘের ব্যবসায়ীদের বসানো অসংখ্য নাইনটি পাইপ অপসারন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নবনির্মিত বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এ অভিযান চালানো হয়। গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি.এম মাছুদুল আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় জনসাধারন ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার শামছুজ্জাহান কনকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে এসব নাইনটি পাইপ অপসারন করেন। সকাল থেকে গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাঁদনীমুখা ও ৯ নং সোরা এলাকার মেঘা প্রকল্পের বেঁড়িবাধ থেকে এসব নাইনটি পাইপ অপসারণ করা হয়।
এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার ভুমি রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার ওসি শফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পানিউন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ থানা পুলিশের একটি টিম।
জানা যায়, চিংড়িঘেরে নদীর লবন পানি সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রাবশালীরা সম্প্রতি উপকূলীয় অঞ্চলের বেঁড়িবাধ সুরক্ষায় সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধের উপরিভাগের ব্লক সরিয়ে বাঁধ কেটে ও ছিদ্র করে পাইপের সাহায্যে সেখানে এসব নাইনটি স্থাপন করেছিল। এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল।
পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার জানান, এখনো পর্যন্ত গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হয়নি। অনেকে নৌকা আটকানোর জন্য খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি কয়েকজন রীতিমত নির্মানাধীন বাঁধ কেটে পাইপের সাহায্যে নাইনটি স্থাপন করেছে। বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিজে থেকে নাইনটিগুলো অপসারণে নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাতে কর্নপাত করেনি। বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে বাঁধের জন্য ক্ষতিকর নাইনটি গুলো অপসারণ করা হয়েছে।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি. এম. মাছুদুল আলম জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে কিছু মৎস্যঘের মালিক অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ পাইপ স্থাপন করে আসছিলেন। এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল। নদী ভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, টেকসই বাঁধ নির্মাণের অংশ হিসেবে এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে গাবুরার চারপাশজুড়ে পুনর্বাসন প্রকল্প চলমান। বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যেই কিছু ব্যক্তি সদ্য নির্মিত বাঁধের উপরের ব্লক সরিয়ে মাটি কেটে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে নাইনটি তৈরি করেছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন অংশের বাঁধ হতে অসংখ্য নাইনটি পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কেউ বাঁধের ক্ষতির চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। সর্বশেষসংবাদ।##








