প্রকাশ : ০৭ জুন ’২৬ খ্রি. রবিবার
দেশ প্রতিবেদক, মোংলা :
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ভারতগামী একটি কার্গো জাহাজে গুলিবর্ষণ, মারধর ও লুটপাট চালিয়েছে একটি সশস্ত্র দল। শনিবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের শিবসা নদীর শিংয়েনালা খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বহরে থাকা অপর চারটি কার্গো জাহাজ দ্রুতি গতিতে নিরাপদে সরে যাওয়ায় তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি এই সশস্ত্র দলটি।

ক্যাপশন : ভারতে সিমেন্টের ফ্লাইঅ্যাশ আনতে যাওয়া ৫টি খালি জাহাজে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গুলি চালায় সশস্ত্র দস্যুরা। – দেশ সংযোগ
বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌ-প্রটোকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, একসাথে ৫টি খালি কার্গো জাহাজ সুন্দরবনের অভ্যন্তরের নৌপথ দিয়ে ভারতে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ‘ফ্লাইঅ্যাশ’ আনতে যাচ্ছিল। শনিবার দুপুর দুইটার দিকে জাহাজগুলো মোংলা থেকে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সুন্দরবনের আংটিহারা সংলগ্ন শেখবাড়িয়া নামক স্থান থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়ের নালা খালের ভেতর ঢোকার পরপরই একটি ট্রলারে করে আসা ১০/১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল জাহাজগুলোকে ধাওয়া করে।

ক্যাপশন : ভারতে সিমেন্টের ফ্লাইঅ্যাশ আনতে যাওয়া ৫টি খালি জাহাজে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে গুলি চালায় সশস্ত্র দস্যুরা। – দেশ সংযোগ
এ সময় বহরে থাকা অন্য চারটি জাহাজ গতি বাড়িয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হলেও সবার পেছনে থাকা এম,ভি আব্দুল হাকিম-০১ নামক কার্গো জাহাজটিতে লাইফ জ্যাকেট পরিহিত হামলাকারীরা উঠে পড়ে। সশস্ত্র দলটি জাহাজে উঠেই নিচে থাকা কার্গোর স্টাফদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে জাহাজের মাস্টার দ্রুত ব্রিজের (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) সব গেইট আটকে দেন। এ সময় সশস্ত্র দলটি মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে বন্ধ দরজায় শটগান দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাহাজে অবস্থান করে তারা জাহাজের স্টাফদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে পালিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনাটি কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরের আন্তর্জাতিক নৌপথে এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এই রুটে জোয়ার-ভাটার হিসেব করে চলতে গিয়ে অনেক সময় রাত-বিরাত হয়ে যায়। নদীতে যদি শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া না হয়, তবে আমরা এই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অন্যদিকে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানা পুলিশ বলেছে এই বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।









