১৫ মে ’২৬ খ্রি. শুক্রবার
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা :
সুন্দরবনে বনদস্যু করিম–শরীফ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুক যুদ্ধে বনদস্যু বাহিনী পরাস্ত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে ৩ দস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩ টি একনলা বন্দুক, ১টি পিস্তল ও ৪৯ রাউন্ড তাঁজা গুলি।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম–শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়াখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল থেকে টানা ২ দিনব্যাপী কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দস্যু বাহিনী গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করে। কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দস্যু বাহিনী পরাস্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে করিম–শরীফ বাহিনীর ৩ জন সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ৩ টি একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাঁজা গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ২ টি ওয়াকিটকি ও ৪ টি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ডাকাত মোঃ মেহেদী হাসান (২৫) ও মোঃ রমজান শরীফ (১৯) বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ এবং মোঃ এনায়েত (২৫) ফরিদপুরের ভাঙ্গার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে করিম–শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে বনবিভাগের তৎপরতা ও সহযোগীতায় করিম–শরীফ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।
জব্দকৃত অস্ত্র, গুলি ও আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে। #








