ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে প্রকৃতির এক আকস্মিক ঝাপটায় কেঁপে উঠল রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ। এ বছরের বেশ কয়েকটি ভয়াবহ কম্পনের স্মৃতি এখনও জনমনে টাটকা। ঠিক সেই ক্ষতই যেন আবারো মনে করিয়ে দিলো আজকের এই ভূকম্পন। বিছানায় থাকা মানুষ গুলো যখন দিন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ঠিক তখনই ঘড়ির কাটায় ৬ টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। সেই পরিচিত দুলুনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা গুলোর তথ্য মতে আজকের এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো রিকটার স্কেলে ৫.১। ভূমিকম্পটির মূল উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাংহাই অঞ্চলের উমালিন এলাকায়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (National Center For Seismology) জানিয়েছে কেন্দ্রস্থলটি ছিলো ভারতের মনিপুর সীমান্তের কামজং জেলা সংলগ্ন। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিলো প্রায় ৬৬ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম রাজশাহী এবং দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা তীব্র আতঙ্কের রাস্তায় নেমে আসেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি ভূপৃষ্ঠের অনেকটা গভীরে হওয়ায় এবং উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৪১ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি। গত কয়েক মাসে ছোটবড় বেশ কিছু কম্পন যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ এক বড় ধরণের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির মুখে দাড়িয়ে। আজকের এই ৫.১ মাত্রার কম্পনটি বড় কোন বিপর্যয় না আনলেও এটি মূলত একটি ওয়েটার ফল বা সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় দুর্যোগ মোকাবেলায় এখনই ভবন নির্মানের বিধিমালা কঠোর ভাবে মানা এবং জনসচেতনা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নাই। ভোরের এই আতংক কাটিয়ে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও প্রকৃতির এই রহস্যময় আচরণের রেশ যেন কাটছেই না সাধারণ মানুষের মন থেকে।









