প্রকাশ : ০১ জুন ’২৬ খ্রি. সোমবার
দেশ প্রতিবেদক :
“তুই আওয়ামী লীগ করিস, রাস্তায় বের হয়েছিস কেন?” বলেই মব করে হত্যা করলো যুবলীগ নেতা এখলাজকে। রবিবার বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে হুমায়ূনের চায়ের দোকানে দুপুর ১২টার দিকে বনদস্যু খ্যাত বিএনপি’র ক্যাডার মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়।

ক্যাপশন : বনদস্যু খ্যাত বিএনপি’র চিহ্নিত ক্যাডার মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজার সৃষ্ট মবে নিহত বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি এখলাজ গাজী। দেশ সংযোগ
স্থানীয়রা জানায়, এখলাজ গাজী রামপাল বাসস্ট্যান্ডে হুমায়ূনের দোকানে চা খেতে আসে। এ সময়ে একই উপজেলার মানিকনগর ভূঁইয়া কান্দা এলাকার বনদস্যু খ্যাত বিএনপি’র ক্যাডার মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা শিকদার ৬/৭ জনকে সাথে হুমায়ূনের চায়ের দোকানে এসে এখলাজের উপর মব সৃষ্টি করে । প্রথমেই মাহমুদ এখলাজকে বলে, “তুই আওয়ামী লীগ করিস, রাস্তায় বের হয়েছিস কেন?” বলেই মারতে থাকে। মারতে মারতে এক পযায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এখলাজ গাজী। এলাকাবাসী দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মৃতের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এখলাজ হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।
এখলাজ গাজী রামপাল উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি। তিনি সদর উপজেলার পশু হাসপাতাল মোড়ের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে সার্বক্ষণিক থাকতেন। এখলাজ হত্যার পরে বিএনপির ক্যাডার মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা শিকদার তার দলবল নিয়ে এলাকা ত্যাগ করে পালিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হত্যা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসি দেশ প্রতিবেদককে জানায়।

ক্যাপশন : বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি এখলাজ গাজীর হত্যাকারী বনদস্যু খ্যাত বিএনপি’র চিহ্নিত ক্যাডার মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা শিকদার। দেশ সংযোগ
চায়ের দোকানদার হুমায়ূন দেশ প্রতিবেদককে বলেন, এখলাজ গাজী প্রতিদিনের মতই দুপুর ১২টার দিকে দোকানে চা খেতে আসে। এ সংবাদ পেয়ে বিএনপি’র ক্যাডার মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা শিকদার ৬/৭জনকে সাথে নিয়ে আমার চায়ের দোকানে আসে। এসেই এখলাজকে বলতে থাকে “তুই আওয়ামী লীগ করিস, রাস্তায় বের হয়েছিস কেন?” এ বলেই মাহমুদ ওরফে মাইজা তার দলবল নিয়ে এখলাজকে বুকেপিঠে, মাথাসহ সর্বাঙ্গে আঘাত করতে থাকে। এক পযায়ে এখলাজ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এখলাজকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত হয়েছে বলে হুমায়ূন ধারণা করছেন।
এদিকে মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা শিকদার বনদস্যু বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। তার নেতৃত্বে সুন্দরবনে একটি সশস্ত্রদল জেলে ও মৌয়াল অপহরণ করে মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজি করে এবং ডাকাতির সাথে জাড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসি দেশ প্রতিবেদককে জানিয়েছে। তবে এ ধরণের কোন জানা নেই বলে অফিসার্স ইনচার্জ রাজিব আল রশিদ জানান।
অপরদিকে সোমবার এখলাজ শিকদারের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখলাজের দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিবে বলে রামপাল থানার অফিসার্স ইনচার্জ রাজিব আল রশিদ দেশ প্রতিবেদককে জানান। ইতিমধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলা হলেই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কাযকরী পদক্ষেপ নিবো। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইজা শিকদার বিএনপির সাধারণ কর্মী। তবে তার কোন পদপদবি নেই বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন।
তবে এখলাজ হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।








