১৪ মে ’২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার
দেশ ডেস্ক :
মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে), খুলনা (রেজিঃ ১০৬৭)-এর পক্ষে বিপক্ষে একে অপরকে ভূয়া পদপদবি ব্যবহার করছে বলে বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দাবিদার যথাক্রমে হাসান আহমেদ মোল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক রানা। দু’জনেই একই সময়ে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করে তাদের নিজস্ব মেইল থেকে পদ পদবিসহ ই-মেইলে এ বিবৃতি পাঠিয়েছেন। হাসান আহমেদ মোল্লা যেমন সকলকে সতর্কীকরণ করেছেন তেমনি আব্দুর রাজ্জাক রানাও পত্রিকার প্রকাশক সম্পাদকদের ভূয়া (রাজ্জাক রানার ভাষায়) পদপদবি ব্যবহারকারীদের কোন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি না ছাপানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক স্নায়ূচাপ চলছে বলে প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়। নিম্নে দু’কমিটির প্রেসবিজ্ঞপ্তি হুবহু উপস্থাপন করা হলো – এক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা লিখেছেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে- মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার নামে ভুয়া পদ পদবী ব্যবহার করে কতিপয় ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন রকম বিবৃতি এবং অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রেরণ করছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অবৈধ।
মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা শ্রম অধিদপ্তরের একটি রেজিস্টার্ড সংগঠন। যার রেজিস্টার্ড নাম্বার (১০৬৭) এই সংগঠনের বৈধ কমিটি রয়েছে। ২০১৪ সালে একটি মামলার কারণে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি সেই মামলাটি ঢাকার শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনালে খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে বৈধ কমিটির সভাপতি আতিয়ার পারভেজ (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে এ এইচ এম শামীমুজ্জামান দায়িত্ব পালন করছেন।
ফলে যারা ভুয়া পদ পদবী ব্যবহার করে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নামে প্রচারণা চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপরাধ করে যাচ্ছেন- তাদের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় ভুয়া কমিটি অথবা ভুয়া নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে তাদেরকে সহযোগিতা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে এমইউজের অপর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা “এমইউজে খুলনার নামে ভূয়া বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ” জানিয়ে বলছেন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার নামে ভুয়া পদ পদবী ব্যবহার করে কতিপয় ব্যক্তি সংবাদপত্র ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন রকম বিবৃতি এবং অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রেরণ করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার নেতৃবৃন্দ।
এমইউজে খুলনার সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা শ্রম অধিদপ্তরের একটি রেজিস্টার্ড সংগঠন। যার রেজিস্টার্ড নাম্বার (১০৬৭) এই সংগঠনের বৈধ কমিটি রয়েছে। ইউনিয়নের সদস্য রফিউল ইসলাম টুটুলের দায়েরকৃত একটি মামলা ঢাকার শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকাবস্থায় ইউনিয়নের সাধারণ সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সমঝোতার ভিত্তিতে মোঃ রাশিদুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক রানার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটি হওয়ায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। যার আলোকে আদালতের পক্ষ থেকে উক্ত আবেদন গ্রহণ সাপেক্ষে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে সেখানেও আবেদনের কারণে মামলাটি প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। যে কারণে এমইউজে’র বর্তমান কমিটির সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোঃ নূরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নুর, কোষাধ্যক্ষ রকিবুল ইসলাম মতি এবং নির্বাহী সদস্য মোঃ এরশাদ আলী ও কেএম জিয়াউস সাদাতই ইউনিয়নের বৈধ নেতা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র নির্বাচিত সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বিএফইউজে’র প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়নের সার্বিক দেখভাল করছেন। বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীসহ বর্তমান নির্বাহী কমিটিও মোঃ রাশিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রানা ও রকিবুল ইসলাম মতির নেতৃত্বাধীন কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। যে বা যারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করছেন তাদের আইনগত কোন বৈধতা নেই। সুতরাং এরপর থেকে এমইউজের নাম ব্যবহার করে কোন অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসাথে খুলনার গণমাধ্যমকর্মী এবং সংবাদপত্রের সম্পাদক-প্রকাশকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে, ইউনিয়নের বৈধ কমিটির বাইরে অন্য কোন ব্যক্তির পাঠানো সংবাদ প্রকাশ না করা হয়।








